Dhaka ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদীয় কমিটির বৈঠক: বিমানের টিকিটের দাম ও ফ্লাইট বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির একটি বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটের বেশি দাম, অনলাইনে টিকিট না পেয়েও ফ্লাইট ফাঁকা থাকা এবং ফ্লাইট বিলম্বের মতো নানা বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের তুলনায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিটের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা এবং এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে কি না তা জানতে চান। জবাবে জানানো হয় যে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ভাড়া নির্ধারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং এয়ারলাইনসগুলো নিজেরাই এই ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে ভাড়ার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জোরালো পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এর আগে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দীর্ঘ সময় বিলম্ব হয়েছিল। অতীতেও এই ধরনের কারিগরি সমস্যা কেন বারবার উদ্ভূত হয়েছে, সে বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে কমিটি। জবাবে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ভিভিআইপি ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবসময় বহরের সবচেয়ে আধুনিক উড়োজাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং যাত্রার আগের নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়েও বৈঠকে কঠোর সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের সার্বিক পরিবেশ ও লিফটের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে এক সদস্য জানান যে অনলাইনে খোঁজ নিয়ে টিকিট পাওয়া না গেলেও অনেক সময় উড়োজাহাজে ওঠার পর বেশ কিছু আসন ফাঁকা দেখা যায়। পাশাপাশি ঢাকা-গুয়াংজু-ঢাকা রুটে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা এবং রাজস্ব আদায়ে ৭৩৬ কোটি টাকার বড় ধরনের অডিট আপত্তি নিয়ে বিস্তারিত জবাব চেয়েছে কমিটি। অডিট আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তার হিসাবও তলব করা হয়েছে।

ফ্লাইট বিলম্বের স্থায়ী কারণ হিসেবে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত চেক-ইন কাউন্টারের অভাব, বোর্ডিং গেটের সংকট, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং স্থায়ী ইউএলডি ইয়ার্ড না থাকাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে কাউন্টার বন্ধ রাখা বা গেট বরাদ্দে বিলম্বের ফলে উড্ডয়নের সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া ডিপারচার ও আগমনী ব্যাগেজ এলাকায় জায়গার সংকটের কারণে যাত্রীদের লাগেজ পেতে অতিরিক্ত সময় লাগে। বৈঠকে গত ১০ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেখা যায় ২০১৭-১৮ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছর লোকসান হলেও বাকি বছরগুলোতে বিমান লাভজনক অবস্থায় ছিল এবং সর্বশেষ অর্থবছরে রেকর্ড মুনাফা অর্জিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্য ও হুইপরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সংসদীয় কমিটির বৈঠক: বিমানের টিকিটের দাম ও ফ্লাইট বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ০৬:০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির একটি বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটের বেশি দাম, অনলাইনে টিকিট না পেয়েও ফ্লাইট ফাঁকা থাকা এবং ফ্লাইট বিলম্বের মতো নানা বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের তুলনায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিটের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা এবং এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে কি না তা জানতে চান। জবাবে জানানো হয় যে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ভাড়া নির্ধারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং এয়ারলাইনসগুলো নিজেরাই এই ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে ভাড়ার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জোরালো পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এর আগে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দীর্ঘ সময় বিলম্ব হয়েছিল। অতীতেও এই ধরনের কারিগরি সমস্যা কেন বারবার উদ্ভূত হয়েছে, সে বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে কমিটি। জবাবে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ভিভিআইপি ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবসময় বহরের সবচেয়ে আধুনিক উড়োজাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং যাত্রার আগের নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়েও বৈঠকে কঠোর সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের সার্বিক পরিবেশ ও লিফটের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে এক সদস্য জানান যে অনলাইনে খোঁজ নিয়ে টিকিট পাওয়া না গেলেও অনেক সময় উড়োজাহাজে ওঠার পর বেশ কিছু আসন ফাঁকা দেখা যায়। পাশাপাশি ঢাকা-গুয়াংজু-ঢাকা রুটে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা এবং রাজস্ব আদায়ে ৭৩৬ কোটি টাকার বড় ধরনের অডিট আপত্তি নিয়ে বিস্তারিত জবাব চেয়েছে কমিটি। অডিট আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তার হিসাবও তলব করা হয়েছে।

ফ্লাইট বিলম্বের স্থায়ী কারণ হিসেবে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত চেক-ইন কাউন্টারের অভাব, বোর্ডিং গেটের সংকট, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং স্থায়ী ইউএলডি ইয়ার্ড না থাকাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে কাউন্টার বন্ধ রাখা বা গেট বরাদ্দে বিলম্বের ফলে উড্ডয়নের সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া ডিপারচার ও আগমনী ব্যাগেজ এলাকায় জায়গার সংকটের কারণে যাত্রীদের লাগেজ পেতে অতিরিক্ত সময় লাগে। বৈঠকে গত ১০ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও উপস্থাপন করা হয়, যেখানে দেখা যায় ২০১৭-১৮ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছর লোকসান হলেও বাকি বছরগুলোতে বিমান লাভজনক অবস্থায় ছিল এবং সর্বশেষ অর্থবছরে রেকর্ড মুনাফা অর্জিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্য ও হুইপরা উপস্থিত ছিলেন।