Dhaka ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

সাকিল হোসেন
  • Update Time : ১০:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩০০ Time View

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ::নওগাঁ-২ আসনকে (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বিএসএ মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী। সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে তার যোগদান বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় পার্টি দিয়ে রাজনীতি শুরু করা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তার এই যোগদানকে নওগাঁ-২ আসনের সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রতিনিধিরা।

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াতসহ ৮টি ইসলামী দলের জোট গঠনের বিষয়টি সর্বজনবিদিত। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে মাঠপর্যায়ে সংগঠিত কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার প্রত্যাশা করছিল। তবে সাবেক এমপি হুমায়ুন কবীর চৌধুরীর খেলাফত মজলিসে যোগদান এবং সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু হওয়ায় জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজশাহী বিভাগের আসন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নওগাঁ-২ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হুমায়ুন কবীর চৌধুরী ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী কাজী আব্দুল মজিদকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার শাসনামলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভোটাররা বলেন, সে সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভালো। চুরির ভয় ছিল না বললেই চলে। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন—ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমাতে, কোনো ক্ষতি হলে তিনি নিজেই তা পূরণ করবেন। বাস্তবেও মানুষ নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বাদ পেয়েছে। মৌলিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের রূপকার হিসেবেও তার অবদান আজও মানুষ স্মরণ করে। দুর্নীতিমুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে বলে দাবি ভোটারদের।

জাতীয় পার্টি থেকে অনেক আগেই পদত্যাগ করা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী পরবর্তীতে তৌহিদী জনতার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সম্প্রতি আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন। দলটির পক্ষ থেকে নওগাঁ-২ আসনে ‘রিকশা’ প্রতীকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বিএসএ মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী বলেন,
“আমার অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। আট দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী। নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি মডেল, উন্নত ও নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। আর যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

নওগাঁ-২ আসনের রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ নিয়েই এখন সর্বত্র আলোচনা।আগামী দিনে কী রূপ নেয়—সে দিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটাররা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

Update Time : ১০:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ::নওগাঁ-২ আসনকে (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বিএসএ মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী। সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে তার যোগদান বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় পার্টি দিয়ে রাজনীতি শুরু করা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তার এই যোগদানকে নওগাঁ-২ আসনের সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রতিনিধিরা।

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াতসহ ৮টি ইসলামী দলের জোট গঠনের বিষয়টি সর্বজনবিদিত। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে মাঠপর্যায়ে সংগঠিত কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার প্রত্যাশা করছিল। তবে সাবেক এমপি হুমায়ুন কবীর চৌধুরীর খেলাফত মজলিসে যোগদান এবং সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু হওয়ায় জামায়াতের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজশাহী বিভাগের আসন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নওগাঁ-২ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হুমায়ুন কবীর চৌধুরী ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী কাজী আব্দুল মজিদকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার শাসনামলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভোটাররা বলেন, সে সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভালো। চুরির ভয় ছিল না বললেই চলে। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন—ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমাতে, কোনো ক্ষতি হলে তিনি নিজেই তা পূরণ করবেন। বাস্তবেও মানুষ নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বাদ পেয়েছে। মৌলিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের রূপকার হিসেবেও তার অবদান আজও মানুষ স্মরণ করে। দুর্নীতিমুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে বলে দাবি ভোটারদের।

জাতীয় পার্টি থেকে অনেক আগেই পদত্যাগ করা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী পরবর্তীতে তৌহিদী জনতার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সম্প্রতি আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন। দলটির পক্ষ থেকে নওগাঁ-২ আসনে ‘রিকশা’ প্রতীকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বিএসএ মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী বলেন,
“আমার অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। আট দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী। নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি মডেল, উন্নত ও নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। আর যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

নওগাঁ-২ আসনের রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ নিয়েই এখন সর্বত্র আলোচনা।আগামী দিনে কী রূপ নেয়—সে দিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটাররা।