Dhaka ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দীদশা থেকে যেভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন জিয়াউর রহমান

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে চরম এক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। সেই উত্তাল সময়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহিলেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ঠিক এমন একটি প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল যা পরবর্তী সময়ে পুরো জাতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ঐ বছরের ছয় নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে, যখন ঢাকা সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থানে কিছু রহস্যময় লিফলেট বিলি করা হয়। যারা এই লিফলেটগুলো হাতে পেয়েছিলেন তারা খুব সহজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে সেই রাতেই দেশের রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে। এই গোপন প্রচারপত্রগুলো সেনানিবাসের ভেতরে ও বাইরে তীব্র উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে এবং সবাই সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

সেই রাতের গোপন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতেই বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে চলে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সংঘটিত এই অভূতপূর্ব ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার সমীকরণে এক বিশাল পরিবর্তন সূচিত হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা কাটিয়ে এই পটপরিবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

পরবর্তী সময়ে এই ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে যে পরিবর্তন আসে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে পূর্ণ সেই দিনটি আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বন্দীদশা থেকে যেভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন জিয়াউর রহমান

Update Time : ০৩:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে চরম এক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। সেই উত্তাল সময়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহিলেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল। ঠিক এমন একটি প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল যা পরবর্তী সময়ে পুরো জাতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ঐ বছরের ছয় নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে, যখন ঢাকা সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থানে কিছু রহস্যময় লিফলেট বিলি করা হয়। যারা এই লিফলেটগুলো হাতে পেয়েছিলেন তারা খুব সহজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে সেই রাতেই দেশের রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে। এই গোপন প্রচারপত্রগুলো সেনানিবাসের ভেতরে ও বাইরে তীব্র উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে এবং সবাই সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

সেই রাতের গোপন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতেই বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে চলে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সংঘটিত এই অভূতপূর্ব ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার সমীকরণে এক বিশাল পরিবর্তন সূচিত হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা কাটিয়ে এই পটপরিবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

পরবর্তী সময়ে এই ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে যে পরিবর্তন আসে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে পূর্ণ সেই দিনটি আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।