Dhaka ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১ Time View

ধর্ম ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার সময় মানুষের ভিড়ে কিংবা অসাবধানতাবশত অনেক সময় একজনের পা অন্যজনের গায়ে লেগে যায়। আমাদের সমাজে এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পা ছুঁয়ে সালাম করার বা বিশেষ শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শনের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে। বহু মানুষ এটিকে নিছক সামাজিক শিষ্টাচার বা ভদ্রতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলাম ধর্মে এই ধরনের আচরণের বাস্তবিক কোনো ধর্মীয় ভিত্তি বা সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে কি না।

ইসলাম ধর্মে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, মার্জিত আচরণ এবং একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুলবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো গায়ে আঘাত লাগলে কিংবা সামান্য ভুল হলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা দুঃখ প্রকাশ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় গুণ। তবে পা লাগার মতো সাধারণ ঘটনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক ভঙ্গি বা সালাম দেওয়ার প্রথা সরাসরি শরিয়তের কোনো বিধান বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে কোথাও নির্ধারিত নেই।

ইসলামি গবেষক ও বিশিষ্ট আলেমদের মতে, এই প্রথাটি মূলত বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের সামাজিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক ভক্তি-শ্রদ্ধার একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এর সঙ্গে খাঁটি ধর্মীয় অনুশাসনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক বা বাধ্যবাধকতা নেই। মানুষ নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এবং ভুলত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে এই ধরনের সামাজিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে ধর্মীয় বিধান মনে করা বা এর ব্যত্যয় ঘটলে পাপ হবে বলে বিশ্বাস করার কোনো অবকাশ নেই।

পরিশেষে বলা যায়, সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এই ধরনের আচার-ব্যবহার মানুষের সামাজিক জীবনকে আরও সুন্দর ও মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলতে পারে। ইসলাম কখনো মানুষের সুস্থ সামাজিক রীতিনীতিকে বাধা দেয় না, যদি না তা শরিয়তের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। তাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো গায়ে পা লেগে গেলে পারস্পরিক ক্ষমা ও শালীনতাই ইসলামি জীবনবোধের মূল কথা, কোনো নির্দিষ্ট ভঙ্গির বাধ্যবাধকতা সেখানে নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

Update Time : ০৪:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার সময় মানুষের ভিড়ে কিংবা অসাবধানতাবশত অনেক সময় একজনের পা অন্যজনের গায়ে লেগে যায়। আমাদের সমাজে এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পা ছুঁয়ে সালাম করার বা বিশেষ শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শনের একটি প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে। বহু মানুষ এটিকে নিছক সামাজিক শিষ্টাচার বা ভদ্রতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলাম ধর্মে এই ধরনের আচরণের বাস্তবিক কোনো ধর্মীয় ভিত্তি বা সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে কি না।

ইসলাম ধর্মে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, মার্জিত আচরণ এবং একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুলবশত বা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো গায়ে আঘাত লাগলে কিংবা সামান্য ভুল হলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা দুঃখ প্রকাশ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় গুণ। তবে পা লাগার মতো সাধারণ ঘটনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক ভঙ্গি বা সালাম দেওয়ার প্রথা সরাসরি শরিয়তের কোনো বিধান বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে কোথাও নির্ধারিত নেই।

ইসলামি গবেষক ও বিশিষ্ট আলেমদের মতে, এই প্রথাটি মূলত বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের সামাজিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক ভক্তি-শ্রদ্ধার একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এর সঙ্গে খাঁটি ধর্মীয় অনুশাসনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক বা বাধ্যবাধকতা নেই। মানুষ নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এবং ভুলত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে এই ধরনের সামাজিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে ধর্মীয় বিধান মনে করা বা এর ব্যত্যয় ঘটলে পাপ হবে বলে বিশ্বাস করার কোনো অবকাশ নেই।

পরিশেষে বলা যায়, সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এই ধরনের আচার-ব্যবহার মানুষের সামাজিক জীবনকে আরও সুন্দর ও মাধুর্যমণ্ডিত করে তুলতে পারে। ইসলাম কখনো মানুষের সুস্থ সামাজিক রীতিনীতিকে বাধা দেয় না, যদি না তা শরিয়তের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। তাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কারো গায়ে পা লেগে গেলে পারস্পরিক ক্ষমা ও শালীনতাই ইসলামি জীবনবোধের মূল কথা, কোনো নির্দিষ্ট ভঙ্গির বাধ্যবাধকতা সেখানে নেই।