Dhaka ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১ Time View

ধর্ম ডেস্ক: পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মা-বাবাকে ইবাদতের পথে নিয়ে আসা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পবিত্র দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে নিজ পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দেওয়ার সুস্পষ্ট তাগিদ রয়েছে, তবে মা-বাবার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালনে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শিষ্টাচার ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হয়। কারণ ইসলামে পিতা-মাতার স্থান সবার ওপরে এবং তাঁদের ভুলত্রুটি সংশোধনের পদ্ধতিটিও হতে হবে অত্যন্ত মার্জিত। তাই কোনোভাবেই মুরব্বি সাজার চেষ্টা না করে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই তাঁদের সামনে দ্বীনের কথা উপস্থাপন করা উচিত।

মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা সবসময় অত্যন্ত বিনয়ী ও মধুর হওয়া আবশ্যক। নবী ইব্রাহিম তাঁর পিতাকে ইমানের দাওয়াত দেওয়ার সময় যেভাবে বারবার প্রিয় পিতা বলে সম্বোধন করেছিলেন, তা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলারদের মতে, মা-বাবাকে সৎকাজের আদেশ দেওয়ার সময় কখনো রূঢ় আচরণ করা যাবে না এবং তাঁরা যদি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সন্তানকে সম্পূর্ণ নীরব ও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়ানো বা তাঁদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা কাম্য নয়।

কথার চেয়ে মানুষের কাজের প্রভাব অনেক বেশি গভীর হয়, যা পিতা-মাতাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে দারুণভাবে কাজ করে। একজন সন্তান যখন নিজে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে এবং তার ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তখন মা-বাবা প্রাকৃতিকভাবেই সেদিকে আকৃষ্ট হন। বিশেষ করে মা-বাবার সেবায় আগের চেয়ে বেশি যত্নবান হলে তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেন যে ইবাদতের মাধ্যমেই সন্তান এত সুন্দর মনের অধিকারী হয়েছে। উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী নীরব দাওয়াত, যা মানুষের হৃদয়কে খুব সহজে জয় করতে পারে।

সরাসরি উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে কৌশলী কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে যা পিতা-মাতার আত্মসম্মানে আঘাত না করে তাঁদের ভেতর সচেতনতা তৈরি করে। আজান শুনলে ঘরোয়াভাবে জবাব দেওয়া, কোরআন তেলাওয়াত করা কিংবা জায়নামাজে বসে দোয়ায় মগ্ন থাকার দৃশ্য অনেক সময় মা-বাবার হৃদয় গলিয়ে দেয়। এছাড়া কৌশল করে তাঁদের বলতে পারেন যে ফজর বা অন্য কোনো ওয়াক্তের নামাজে যেন সন্তানকে একটু ডেকে দেওয়া হয়, যা তাঁদের মনেও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। একইসঙ্গে বাহ্যিক চেষ্টার পাশাপাশি শেষরাতে আল্লাহর দরবারে তাদের হেদায়াতের জন্য গভীর প্রার্থনা করা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

Update Time : ০৪:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মা-বাবাকে ইবাদতের পথে নিয়ে আসা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পবিত্র দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে নিজ পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দেওয়ার সুস্পষ্ট তাগিদ রয়েছে, তবে মা-বাবার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালনে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি শিষ্টাচার ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হয়। কারণ ইসলামে পিতা-মাতার স্থান সবার ওপরে এবং তাঁদের ভুলত্রুটি সংশোধনের পদ্ধতিটিও হতে হবে অত্যন্ত মার্জিত। তাই কোনোভাবেই মুরব্বি সাজার চেষ্টা না করে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই তাঁদের সামনে দ্বীনের কথা উপস্থাপন করা উচিত।

মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা সবসময় অত্যন্ত বিনয়ী ও মধুর হওয়া আবশ্যক। নবী ইব্রাহিম তাঁর পিতাকে ইমানের দাওয়াত দেওয়ার সময় যেভাবে বারবার প্রিয় পিতা বলে সম্বোধন করেছিলেন, তা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলারদের মতে, মা-বাবাকে সৎকাজের আদেশ দেওয়ার সময় কখনো রূঢ় আচরণ করা যাবে না এবং তাঁরা যদি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সন্তানকে সম্পূর্ণ নীরব ও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়ানো বা তাঁদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা কাম্য নয়।

কথার চেয়ে মানুষের কাজের প্রভাব অনেক বেশি গভীর হয়, যা পিতা-মাতাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে দারুণভাবে কাজ করে। একজন সন্তান যখন নিজে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে এবং তার ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তখন মা-বাবা প্রাকৃতিকভাবেই সেদিকে আকৃষ্ট হন। বিশেষ করে মা-বাবার সেবায় আগের চেয়ে বেশি যত্নবান হলে তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেন যে ইবাদতের মাধ্যমেই সন্তান এত সুন্দর মনের অধিকারী হয়েছে। উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী নীরব দাওয়াত, যা মানুষের হৃদয়কে খুব সহজে জয় করতে পারে।

সরাসরি উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে কৌশলী কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে যা পিতা-মাতার আত্মসম্মানে আঘাত না করে তাঁদের ভেতর সচেতনতা তৈরি করে। আজান শুনলে ঘরোয়াভাবে জবাব দেওয়া, কোরআন তেলাওয়াত করা কিংবা জায়নামাজে বসে দোয়ায় মগ্ন থাকার দৃশ্য অনেক সময় মা-বাবার হৃদয় গলিয়ে দেয়। এছাড়া কৌশল করে তাঁদের বলতে পারেন যে ফজর বা অন্য কোনো ওয়াক্তের নামাজে যেন সন্তানকে একটু ডেকে দেওয়া হয়, যা তাঁদের মনেও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। একইসঙ্গে বাহ্যিক চেষ্টার পাশাপাশি শেষরাতে আল্লাহর দরবারে তাদের হেদায়াতের জন্য গভীর প্রার্থনা করা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ।