Dhaka ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারও ড্রেসআপ ঠিক নেই, এরা চিকিৎসক, নার্স না কি দালাল: ঢামেকে অভিযানে দুদক চেয়ারম্যান

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ০ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সম্প্রতি একটি আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই অভিযানে অংশ নেন দুদকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এবং তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের একাংশের পোশাকবিধি না মানার বিষয়টি এবং কর্মস্থলে তাদের অনুপস্থিতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করার এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকারী দলটি জরুরি বিভাগের ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে অনেক চিকিৎসক তাদের নির্ধারিত কক্ষে উপস্থিত নেই। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের কজন চিকিৎসক এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে তাদের নিজ নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অনেকেরই নির্দিষ্ট কোনো পোশাক বা অ্যাপ্রন পরিধান করা ছিল না, যার ফলে তারা প্রকৃত চিকিৎসক, নার্স নাকি অন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী তা শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুপুরবেলা কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত কর্মীরা জানান যে তারা চায়ের বিরতিতে বা বাইরে গেছেন। অথচ সেই সময়ে রোগীরা জরুরি ওষুধপত্র এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে হন্তদন্ত হয়ে ছোটাছুটি করছিলেন।

এ সময় হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ এবং সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। রোগীদের পক্ষ থেকে প্রায়শই অভিযোগ করা হয় যে তারা চিকিৎসকদের সময়মতো পান না এবং সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে এবং সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়ন করতে দুদক চেয়ারপারসন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশনা দেন। যারা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের দ্রুত কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসব অনিয়মের পেছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং কিছু অসাধু চিকিৎসকের রোগী ভাগানোর কারসজির বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এই বিষয়ে জানানো হয় যে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগসাজশ করে একশ্রেণির চক্র এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে যা বন্ধে সরকারের তরফ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেন। দুদকের পক্ষ থেকে যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। হাসপাতালকে পুরোপুরি দালালমুক্ত এবং সেবামুখী করতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কারও ড্রেসআপ ঠিক নেই, এরা চিকিৎসক, নার্স না কি দালাল: ঢামেকে অভিযানে দুদক চেয়ারম্যান

Update Time : ০৩:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সম্প্রতি একটি আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই অভিযানে অংশ নেন দুদকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এবং তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের একাংশের পোশাকবিধি না মানার বিষয়টি এবং কর্মস্থলে তাদের অনুপস্থিতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করার এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকারী দলটি জরুরি বিভাগের ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান যে অনেক চিকিৎসক তাদের নির্ধারিত কক্ষে উপস্থিত নেই। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের কজন চিকিৎসক এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে তাদের নিজ নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অনেকেরই নির্দিষ্ট কোনো পোশাক বা অ্যাপ্রন পরিধান করা ছিল না, যার ফলে তারা প্রকৃত চিকিৎসক, নার্স নাকি অন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী তা শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুপুরবেলা কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত কর্মীরা জানান যে তারা চায়ের বিরতিতে বা বাইরে গেছেন। অথচ সেই সময়ে রোগীরা জরুরি ওষুধপত্র এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে হন্তদন্ত হয়ে ছোটাছুটি করছিলেন।

এ সময় হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ এবং সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। রোগীদের পক্ষ থেকে প্রায়শই অভিযোগ করা হয় যে তারা চিকিৎসকদের সময়মতো পান না এবং সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে এবং সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়ন করতে দুদক চেয়ারপারসন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশনা দেন। যারা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের দ্রুত কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসব অনিয়মের পেছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং কিছু অসাধু চিকিৎসকের রোগী ভাগানোর কারসজির বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এই বিষয়ে জানানো হয় যে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগসাজশ করে একশ্রেণির চক্র এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে যা বন্ধে সরকারের তরফ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেন। দুদকের পক্ষ থেকে যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। হাসপাতালকে পুরোপুরি দালালমুক্ত এবং সেবামুখী করতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।