তেল-গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে—অভিযোগ জামায়াতের
- Update Time : ০৬:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪ Time View
রাজনীতি ডেস্ক: রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে গ্যাস সিলিন্ডার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন যা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের নামে বারবার দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে উল্টো দাম বাড়িয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে, তখন দেশে মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কৃষি খাতের সংকট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন যে, কৃষকদের চাহিদামতো পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না অথচ কৃষিমন্ত্রী দেশে কোনো সংকট নেই বলে দাবি করে আসছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কৃষকদের বাদ দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে এবং সাজানো প্রশ্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে সরকার সারের প্রকৃত সংকট আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরা এই ধরনের মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে দলটির আরেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন যে, অতীতে বিভিন্ন সংকটের সমাধানে নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কেন কমছে না তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন এবং অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান। পরিশেষে, পুলিশের উপস্থিতিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্ধারিত রুট ধরে মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
























