Dhaka ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

জামাল উদ্দীন
  • Update Time : ১০:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / ২৩ Time View

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি::কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলনের নামে সরকারের প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী কক্সবাজারের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জিওবি ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ২৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪৭৬ কোটি টাকা, যা দেশের অন্যান্য চার লেন মহাসড়কের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের সিডব্লিউ-৩বি ও সিডব্লিউ-৩সি প্যাকেজের কার্যাদেশপ্রাপ্ত টোকিও-এমআইএল জয়েন্ট ভেঞ্চার সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলনের অনুমতি নেয়। পরে সরকারি নির্ধারিত রয়্যালটি হার উপেক্ষা করে মাত্র ৫০ পয়সা হারে বালুর মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে বিষয়টি আলোচনায় এলে একটি উপ-কমিটি গঠন করে প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ২ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এটিও সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ছাড়া বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ায় নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আবেদনকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

Update Time : ১০:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি::কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলনের নামে সরকারের প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী কক্সবাজারের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জিওবি ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ২৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪৭৬ কোটি টাকা, যা দেশের অন্যান্য চার লেন মহাসড়কের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের সিডব্লিউ-৩বি ও সিডব্লিউ-৩সি প্যাকেজের কার্যাদেশপ্রাপ্ত টোকিও-এমআইএল জয়েন্ট ভেঞ্চার সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলনের অনুমতি নেয়। পরে সরকারি নির্ধারিত রয়্যালটি হার উপেক্ষা করে মাত্র ৫০ পয়সা হারে বালুর মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে বিষয়টি আলোচনায় এলে একটি উপ-কমিটি গঠন করে প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ২ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এটিও সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ছাড়া বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ায় নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আবেদনকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।