২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য সরকারের: বিদ্যুৎমন্ত্রী
- Update Time : ০২:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়ন এবং খাতের সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবে একটি বিশেষ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর अत्यधिक মাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। এই ধরনের ঝুঁকি থেকে ভবিষ্যৎ সুরক্ষা পেতে প্রস্তাবিত বিশেষ আইনটি আগামী চার বছরে গৃহীত সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহিত করতে ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন সাপেক্ষে সরকারি প্রণোদনা ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে আধুনিক পাওয়ার গ্রিডের ঘাটতির কারণে পারমাণবিক, জীবাশ্ম এবং নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ একসাথে সমন্বয় করা কিছুটা জটিল বলে স্বীকার করেন জ্বালানিমন্ত্রী। তবে এই সমস্যা সমাধানে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গ্রিড ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন যে দেশের প্রায় ছিয়ানব্বই শতাংশ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা উত্তরণে সবুজ শক্তির বিকল্প নেই।
তিন দিনব্যাপী এই জ্বালানি উৎসবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোলার, উইন্ড এনার্জি, বায়োগ্যাস এবং ব্যাটারি স্টোরেজ সংক্রান্ত নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের যৌথভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই আয়োজনে অংশ নিয়ে নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
























