Dhaka ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড

মোঃ খলিলুর রহমান
  • Update Time : ০৯:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯ Time View

মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা ::যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদার নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ। 

মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। এ মামলার বাদী হলেন, জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কালিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। এজাহারে আরও বলা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। 

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকা নিথর অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে রয়েছে। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের বিচারক আজ সোমবার আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদ্বন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করেন। তবে, এ রায় ঘোষনার সময় আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। অনেক আগেই তিনি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পালিয়ে যান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড

Update Time : ০৯:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা ::যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদার নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ। 

মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। এ মামলার বাদী হলেন, জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কালিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। এজাহারে আরও বলা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। 

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকা নিথর অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে রয়েছে। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের বিচারক আজ সোমবার আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদ্বন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করেন। তবে, এ রায় ঘোষনার সময় আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। অনেক আগেই তিনি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পালিয়ে যান।