Dhaka ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম। তিনি এবং ডাকসু এই সভাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং একটি প্রহসনমূলক আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্র প্রতিনিধিরা তাতে অংশ নেননি।

একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল পুরো রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন, যা কেবল নামমাত্র কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে সংবিধান সংশোধন এবং প্রকৃত সংস্কার কখনো সমার্থক হতে পারে না। বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সংসদের পক্ষে নতুন কোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা জটিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অতীতের বিভিন্ন সাংবিধানিক সংশোধনীর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে অতীতে পঞ্চদশ, অষ্টম কিংবা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো পরবর্তীতে আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এর মাধ্যমে সংসদের সংশোধন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রমাণিত হয় বলে তিনি মনে করেন। জুলাই সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পরিবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা বর্তমান কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারের এই উদ্যোগকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ বলে তীব্র সমালোচনা করেন ডাকসু সহ-সভাপতি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন এবং সেই জনরায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। সব ধরনের সংকীর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা পরিহার করে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে একটি স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোরালো দাবি জানান তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

Update Time : ০৪:০০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম। তিনি এবং ডাকসু এই সভাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং একটি প্রহসনমূলক আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্র প্রতিনিধিরা তাতে অংশ নেননি।

একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল পুরো রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন, যা কেবল নামমাত্র কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে সংবিধান সংশোধন এবং প্রকৃত সংস্কার কখনো সমার্থক হতে পারে না। বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সংসদের পক্ষে নতুন কোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা জটিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অতীতের বিভিন্ন সাংবিধানিক সংশোধনীর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে অতীতে পঞ্চদশ, অষ্টম কিংবা ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো পরবর্তীতে আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এর মাধ্যমে সংসদের সংশোধন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রমাণিত হয় বলে তিনি মনে করেন। জুলাই সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পরিবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা বর্তমান কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারের এই উদ্যোগকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ বলে তীব্র সমালোচনা করেন ডাকসু সহ-সভাপতি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন এবং সেই জনরায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। সব ধরনের সংকীর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা পরিহার করে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে একটি স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোরালো দাবি জানান তিনি।