শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সাথে চুক্তি ঘিরে উদ্বেগ কেন?
- Update Time : ১২:১৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বা পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চললেও এখন এর চূড়ান্ত পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানাবিধ আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপানের চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত শর্তগুলো নিয়ে দেশের ভেতরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে নীতিপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। এই শর্তগুলোর মধ্যে অর্থায়ন, জনবল নিয়োগ, পরিচালনা ব্যয় এবং লাভের অংশীদারিত্বের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো যদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা না হয়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও বিমান চলাচল খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি সহায়তা এবং ব্যবস্থাপনার খরচের অঙ্কটি অনেক বেশি হওয়ায় তা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে।
দেশের বিমান পরিবহন খাতের অনেকেই মনে করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালটি দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে। ফলে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার যুক্তিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও, দেশের স্থানীয় প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপকদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চুক্তির শর্তগুলো সম্পূর্ণ স্বচ্ছ না হলে ভবিষ্যতে যাত্রী সেবার মান এবং রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য বরাবরই বলে আসছে যে, জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের সেবা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করা। তারা মনে করছেন, অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে অপারেশনাল দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক মানের এভিয়েশন হাব হিসেবে ঢাকা বিমানবন্দরের পরিচিতি বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের জোরালো পরামর্শ হলো, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা উচিত। চুক্তির প্রতিটি ধারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

























