Dhaka ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক সমর্থন দেখাতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়: নবীন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

জাতীয় ডেস্ক: প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ সমর্থন করতেই পারেন। তবে এই সমর্থনের প্রকাশ ঘটাতে হবে কেবল ব্যালট বাক্সে, কোনোভাবেই তা সরকারি অফিসের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) আয়োজিত ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী এই কোর্সে অংশ নেওয়া সেরা দশ কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন সরকারপ্রধান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকুরিতে দায়িত্ব পালনের সময় দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেটি এখন সামগ্রিকভাবে জনগণের দলিলে পরিণত হয়েছে। ফলে সেই ইশতেহারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সরকারের সার্বিক সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে একটি দক্ষ, সৎ ও মানবিক গুণসম্পন্ন জনবান্ধব প্রশাসনের ওপর। এই ধরনের গুণাবলি কেবল একজন ব্যক্তির পেশাগত জীবনকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র ও সরকারকেও শক্তিশালী করে তোলে।

নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল দাপ্তরিক নির্দেশ পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রত্যাশী কোনো মানুষ যেন সরকারি দপ্তরে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রত্যেককেই অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়, তাই নাগরিকরা সেবা নিতে আসলে তাদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনে ভুল ত্রুটি থাকলে কেবল তা ধরিয়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা উচিত নয়, বরং কোথায় গেলে সেই ভুল সংশোধন করা সম্ভব সেই বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। মূলত এই ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতাই হচ্ছে প্রকৃত মানবিকতা ও আন্তরিকতার বড় বহিঃপ্রকাশ।

পদায়ন বা পদোন্নতির জন্য নিজের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কোনো আপস না করার কঠোর নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের লক্ষণ। কারণ কোনো সরকারই চিরস্থায়ী নয় এবং জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও আজীবনের জন্য বরাদ্দ থাকে না। প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে নাগরিকদের দ্রুত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু নিয়মের বেড়াজাল নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নিজেদের ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের বিশেষ যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাজনৈতিক সমর্থন দেখাতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়: নবীন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ সমর্থন করতেই পারেন। তবে এই সমর্থনের প্রকাশ ঘটাতে হবে কেবল ব্যালট বাক্সে, কোনোভাবেই তা সরকারি অফিসের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) আয়োজিত ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী এই কোর্সে অংশ নেওয়া সেরা দশ কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন সরকারপ্রধান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকুরিতে দায়িত্ব পালনের সময় দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেটি এখন সামগ্রিকভাবে জনগণের দলিলে পরিণত হয়েছে। ফলে সেই ইশতেহারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সরকারের সার্বিক সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে একটি দক্ষ, সৎ ও মানবিক গুণসম্পন্ন জনবান্ধব প্রশাসনের ওপর। এই ধরনের গুণাবলি কেবল একজন ব্যক্তির পেশাগত জীবনকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র ও সরকারকেও শক্তিশালী করে তোলে।

নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল দাপ্তরিক নির্দেশ পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রত্যাশী কোনো মানুষ যেন সরকারি দপ্তরে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রত্যেককেই অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়, তাই নাগরিকরা সেবা নিতে আসলে তাদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনে ভুল ত্রুটি থাকলে কেবল তা ধরিয়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা উচিত নয়, বরং কোথায় গেলে সেই ভুল সংশোধন করা সম্ভব সেই বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। মূলত এই ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতাই হচ্ছে প্রকৃত মানবিকতা ও আন্তরিকতার বড় বহিঃপ্রকাশ।

পদায়ন বা পদোন্নতির জন্য নিজের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কোনো আপস না করার কঠোর নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের লক্ষণ। কারণ কোনো সরকারই চিরস্থায়ী নয় এবং জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও আজীবনের জন্য বরাদ্দ থাকে না। প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে নাগরিকদের দ্রুত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু নিয়মের বেড়াজাল নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নিজেদের ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের বিশেষ যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।