Dhaka ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক রোধে সক্রিয় পুলিশ: উলিপুরে ইয়াবাসহ আটক দুই

রফিকুল ইসলাম রফিক
  • Update Time : ০৮:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৪ Time View

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক লেনদেনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উলিপুর পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করে উলিপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. আনারুল ইসলাম (৩৮) ও মো. মাসুদুর রহমান জয়কে আটক করা হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে আনারুল ইসলামের পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৩০টি গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ৩ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া, মাসুদুর রহমান জয়ের কাছ থেকে একটি সিম্ফনি জেড২২ মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি আইটেল আইটি-২১৭১ মডেলের বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব মোবাইল ফোন মাদক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক যোগাযোগে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয় এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করে তা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (এফআইআর নং-২৩/২৬, জিআর নং-৮৫/২৬)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ যেমন কাজ করছে, তেমনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হলে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মাদক রোধে সক্রিয় পুলিশ: উলিপুরে ইয়াবাসহ আটক দুই

Update Time : ০৮:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক লেনদেনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উলিপুর পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করে উলিপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. আনারুল ইসলাম (৩৮) ও মো. মাসুদুর রহমান জয়কে আটক করা হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে আনারুল ইসলামের পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৩০টি গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ৩ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া, মাসুদুর রহমান জয়ের কাছ থেকে একটি সিম্ফনি জেড২২ মডেলের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি আইটেল আইটি-২১৭১ মডেলের বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব মোবাইল ফোন মাদক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক যোগাযোগে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয় এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করে তা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় উলিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (এফআইআর নং-২৩/২৬, জিআর নং-৮৫/২৬)। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ যেমন কাজ করছে, তেমনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হলে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।