Dhaka ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়ার পথে হেঁটে চলা

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

ভ্রমণ ডেস্ক: ছুটির দিনে প্রথাগত পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার বাইরে একটু ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিকল্পনা মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। কেবল নির্দিষ্ট কিছু দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ নয়, বরং সিলেটের পাহাড়ি পথ, প্রাকৃতিক ঝরনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। অবশেষে দীর্ঘদিনের সেই সুপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছি এবং প্রকৃতির একদম কাছাকাছি যাওয়ার এক দারুণ সুযোগ মিলেছে।

আমাদের এই বিশেষ ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল সিলেটের বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়ার দিকে পায়ে হেঁটে এগিয়ে যাওয়া বা বর্ডার হাইকিং। দুই পাশের সবুজ পাহাড় আর বুনো প্রকৃতির বুক চিরে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা এবং রোমাঞ্চকর। এই পথচলার সময় পাহাড়ি জনপদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং চারপাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, যা সাধারণ কোনো যানবাহনে যাতায়াত করলে একেবারেই মিস হয়ে যেত।

পথিমধ্যে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার নানা দিক খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ পাওয়া যায়, যা এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় মিতালি আমাদের মুগ্ধ করেছে। এই ধরনের পদব্রজে ভ্রমণ কেবল শারীরিক ক্লান্তি দূর করে না, বরং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

সব মিলিয়ে বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়া পর্যন্ত এই হাইকিংয়ের অভিজ্ঞতা ভ্রমণ তালিকায় এক স্মরণীয় অধ হয়ে থাকবে। প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের আন্তরিকতা এই যাত্রাকে সার্থক করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অভিযাত্রিক ও প্রকৃতিমুখী ভ্রমণের পরিকল্পনা করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এই সফল ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়ার পথে হেঁটে চলা

Update Time : ১০:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ভ্রমণ ডেস্ক: ছুটির দিনে প্রথাগত পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার বাইরে একটু ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিকল্পনা মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। কেবল নির্দিষ্ট কিছু দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ নয়, বরং সিলেটের পাহাড়ি পথ, প্রাকৃতিক ঝরনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। অবশেষে দীর্ঘদিনের সেই সুপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছি এবং প্রকৃতির একদম কাছাকাছি যাওয়ার এক দারুণ সুযোগ মিলেছে।

আমাদের এই বিশেষ ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল সিলেটের বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়ার দিকে পায়ে হেঁটে এগিয়ে যাওয়া বা বর্ডার হাইকিং। দুই পাশের সবুজ পাহাড় আর বুনো প্রকৃতির বুক চিরে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা এবং রোমাঞ্চকর। এই পথচলার সময় পাহাড়ি জনপদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং চারপাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, যা সাধারণ কোনো যানবাহনে যাতায়াত করলে একেবারেই মিস হয়ে যেত।

পথিমধ্যে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার নানা দিক খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ পাওয়া যায়, যা এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় মিতালি আমাদের মুগ্ধ করেছে। এই ধরনের পদব্রজে ভ্রমণ কেবল শারীরিক ক্লান্তি দূর করে না, বরং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

সব মিলিয়ে বিছানাকান্দি থেকে লক্ষণছড়া পর্যন্ত এই হাইকিংয়ের অভিজ্ঞতা ভ্রমণ তালিকায় এক স্মরণীয় অধ হয়ে থাকবে। প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের আন্তরিকতা এই যাত্রাকে সার্থক করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অভিযাত্রিক ও প্রকৃতিমুখী ভ্রমণের পরিকল্পনা করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এই সফল ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।