Dhaka ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য গঠিত নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। সরকারের তরফ থেকে সম্প্রতি এই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম এই বৈঠকে মূলত বোর্ডের সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত পদ্ধতি ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি গতিশীল করার ব্যাপারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বৈঠক শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিগণ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি কার্যকর করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, শ্রমিকেরা পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে ডিসেম্বর মাসের মূল বেতনের সঙ্গে নতুন কাঠামোর বর্ধিত অর্থ হাতে পাবেন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি তথা বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন উভয়েই এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের মতপার্থক্য নেই।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে শ্রমিকপক্ষের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো কার্যক্রম শেষ করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব বোর্ডে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে এবং সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক প্রস্তাব প্রস্তুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বোর্ডের চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারের কাছে মজুরি সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন ও জমা দেওয়া সম্ভব হবে। সাধারণত এই ধরনের শিল্প খাতের মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বোর্ড অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিকদের স্বার্থ ও অধিকার সর্বাধিক বিবেচনায় রেখেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মূল মজুরি বৃদ্ধির আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকে শ্রমিকদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিগণ শ্রম আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার রক্ষা এবং যথাযথ ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ উভয়ই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে

Update Time : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য গঠিত নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। সরকারের তরফ থেকে সম্প্রতি এই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম এই বৈঠকে মূলত বোর্ডের সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত পদ্ধতি ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি গতিশীল করার ব্যাপারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বৈঠক শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিগণ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি কার্যকর করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, শ্রমিকেরা পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে ডিসেম্বর মাসের মূল বেতনের সঙ্গে নতুন কাঠামোর বর্ধিত অর্থ হাতে পাবেন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি তথা বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন উভয়েই এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের মতপার্থক্য নেই।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে শ্রমিকপক্ষের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো কার্যক্রম শেষ করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব বোর্ডে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে এবং সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক প্রস্তাব প্রস্তুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বোর্ডের চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারের কাছে মজুরি সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন ও জমা দেওয়া সম্ভব হবে। সাধারণত এই ধরনের শিল্প খাতের মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বোর্ড অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিকদের স্বার্থ ও অধিকার সর্বাধিক বিবেচনায় রেখেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মূল মজুরি বৃদ্ধির আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকে শ্রমিকদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিগণ শ্রম আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার রক্ষা এবং যথাযথ ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ উভয়ই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।