Dhaka ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূল পর্যায়ে নারী স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫ Time View

স্বাস্থ্য ডেস্ক: জটিল নারী স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশের লাখ লাখ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে ভুগে থাকেন, যা প্রায়শই অগোচরে থেকে যায়।

সামাজিক বাধা ও জনসচেতনতার অভাবের কারণে এই ধরনের রোগের শিকার নারীরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পান না। এই সংকট উত্তরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশে থাকবেন নারী কর্মীরা। মাঠপর্যায়ে নারীদের সঙ্গে এসব কর্মীর সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় সহজ হবে। এছাড়া দক্ষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি সুনির্দিষ্ট রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বহুদিনের পুরোনো সমস্যা। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের চিকিৎসালয়গুলোকে পর্যাপ্ত জনবল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করতে পারলে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরি সম্ভব। এর ফলে সিংহভাগ মানুষ নিজ এলাকাতেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং বড় শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। মূলত স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

চিকিৎসক সমাজের দক্ষতার কথা তুলে ধরে গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় পিছিয়ে পড়তে হয় তরুণ চিকিৎসকদের। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরায়ুমুখের ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের বিস্তার রোধে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

তৃণমূল পর্যায়ে নারী স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৫:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: জটিল নারী স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশের লাখ লাখ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে ভুগে থাকেন, যা প্রায়শই অগোচরে থেকে যায়।

সামাজিক বাধা ও জনসচেতনতার অভাবের কারণে এই ধরনের রোগের শিকার নারীরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পান না। এই সংকট উত্তরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশে থাকবেন নারী কর্মীরা। মাঠপর্যায়ে নারীদের সঙ্গে এসব কর্মীর সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় সহজ হবে। এছাড়া দক্ষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি সুনির্দিষ্ট রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বহুদিনের পুরোনো সমস্যা। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের চিকিৎসালয়গুলোকে পর্যাপ্ত জনবল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করতে পারলে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরি সম্ভব। এর ফলে সিংহভাগ মানুষ নিজ এলাকাতেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং বড় শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। মূলত স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

চিকিৎসক সমাজের দক্ষতার কথা তুলে ধরে গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় পিছিয়ে পড়তে হয় তরুণ চিকিৎসকদের। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরায়ুমুখের ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের বিস্তার রোধে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।