Dhaka ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪ Time View

রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশ পরিচালনার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশ থেকে দুর্নীতি, লুটপাট এবং দখলদারত্ব টিকিয়ে রাখা এবং এই পরিকল্পনা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। সমাবেশটি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাহবাগ চত্বরে সমবেত হন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম জানান যে তাঁর দলের নেতারা সম্প্রতি রাজধানী ঘুরে মানুষের দুরবস্থার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান প্রশাসন দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

সরকারের এই সার্বিক ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধানত দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা। এছাড়া জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানিমন্ত্রীরও নিজ পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবিলম্বে এই দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তা না হলে তাদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুংকার দেন তিনি। একতরফা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে ভঙ্গ করে চলেছে। হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল আজ নস্যাৎ হতে বসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সীমান্তে অব্যাহত হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে ভারতের জন্য করিডর হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের জনগণ প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠিত এই গণবিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করা, স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী না করা এবং জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, নুসরাত তাবাসসুম, সারজিস আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে সমাবেশে শেষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন: নাহিদ ইসলাম

Update Time : ০৭:০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশ পরিচালনার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশ থেকে দুর্নীতি, লুটপাট এবং দখলদারত্ব টিকিয়ে রাখা এবং এই পরিকল্পনা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। সমাবেশটি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাহবাগ চত্বরে সমবেত হন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সমাবেশে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম জানান যে তাঁর দলের নেতারা সম্প্রতি রাজধানী ঘুরে মানুষের দুরবস্থার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান প্রশাসন দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

সরকারের এই সার্বিক ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধানত দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা। এছাড়া জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানিমন্ত্রীরও নিজ পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবিলম্বে এই দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তা না হলে তাদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুংকার দেন তিনি। একতরফা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে ভঙ্গ করে চলেছে। হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল আজ নস্যাৎ হতে বসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সীমান্তে অব্যাহত হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে ভারতের জন্য করিডর হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের জনগণ প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠিত এই গণবিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করা, স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী না করা এবং জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, নুসরাত তাবাসসুম, সারজিস আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে সমাবেশে শেষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।