Dhaka ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে প্রথম জাতীয় ইয়ুথ নিউক্লিয়ার সংলাপ অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়ালগ বা ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০ শীর্ষক বিশেষ সংলাপ। ঈশ্বরদীর নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন সেন্টারে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজন করেছে রসাটম স্টেট করপোরেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল। দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশাধিক তরুণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার তরুণ পেশাজীবী এবং গ্র্যাজুয়েটরা এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই সংলাপটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়েব এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মানবসম্পদ বিভাগের উপপ্রকল্প পরিচালক ওলগা ভিশনেভস্কায়া। এ ছাড়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের তরুণ বিশেষজ্ঞ এবং রসাটমের ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০-এর সদস্য প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের যুবসমাজ পারমাণবিক শক্তির বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহী রয়েছে এবং দেশের পারমাণবিক খাতের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আলোচনা সভায় পারমাণবিক শক্তির বহুমুখী সম্ভাবনা, ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী তরুণরা পারমাণবিক খাতের অগ্রগতিতে বেশ কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে সচেতনতার কিছুটা অভাব রয়েছে এবং বিশেষায়িত শিক্ষা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগও বেশ সীমিত। এ ছাড়া গবেষণা সুবিধার ঘাটতি এবং ইন্টার্নশিপের স্বল্পতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিকিরণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ও উদ্বেগ দূর করার জন্য সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর জোর দেন তরুণরা। এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে তাঁরা বিশেষায়িত কোর্স চালু, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের জোরালো সুপারিশ করেন।

এই সংলাপ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো পরবর্তীতে রসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এমনকি তুরস্কের আন্তালিয়ায় বসতে যাওয়া আগামী জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন বা কপ ৩১-এও এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং দেশের পারমাণবিক খাতের টেকসই উন্নয়নে আরও বেশি সক্রিয় ও উৎসাহী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈশ্বরদীতে প্রথম জাতীয় ইয়ুথ নিউক্লিয়ার সংলাপ অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৫:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়ালগ বা ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০ শীর্ষক বিশেষ সংলাপ। ঈশ্বরদীর নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন সেন্টারে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজন করেছে রসাটম স্টেট করপোরেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল। দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশাধিক তরুণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার তরুণ পেশাজীবী এবং গ্র্যাজুয়েটরা এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই সংলাপটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়েব এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মানবসম্পদ বিভাগের উপপ্রকল্প পরিচালক ওলগা ভিশনেভস্কায়া। এ ছাড়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের তরুণ বিশেষজ্ঞ এবং রসাটমের ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০-এর সদস্য প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের যুবসমাজ পারমাণবিক শক্তির বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহী রয়েছে এবং দেশের পারমাণবিক খাতের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আলোচনা সভায় পারমাণবিক শক্তির বহুমুখী সম্ভাবনা, ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী তরুণরা পারমাণবিক খাতের অগ্রগতিতে বেশ কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে সচেতনতার কিছুটা অভাব রয়েছে এবং বিশেষায়িত শিক্ষা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগও বেশ সীমিত। এ ছাড়া গবেষণা সুবিধার ঘাটতি এবং ইন্টার্নশিপের স্বল্পতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিকিরণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ও উদ্বেগ দূর করার জন্য সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর জোর দেন তরুণরা। এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে তাঁরা বিশেষায়িত কোর্স চালু, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের জোরালো সুপারিশ করেন।

এই সংলাপ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো পরবর্তীতে রসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এমনকি তুরস্কের আন্তালিয়ায় বসতে যাওয়া আগামী জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন বা কপ ৩১-এও এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং দেশের পারমাণবিক খাতের টেকসই উন্নয়নে আরও বেশি সক্রিয় ও উৎসাহী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।