Dhaka ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনানী রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু, একই পরিবারের ৬ জন

জামাল উদ্দীন
  • Update Time : ০৬:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬৪ Time View

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে তিনতলা কাঠের রিসোর্টটিতে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে যায়।

প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে বিপাকে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে রিসোর্টের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই পরিবারের ছয়জন নিহত প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ফায়িজান আহম্মেদ (৫), সাবরিন (২৩) ও জেরিফ (১৮)।

এ ছাড়া নাফিসতা মীম (২৭) ও চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবিরের (৩৩) নামও নিহতদের তালিকায় এসেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সন্দেহ প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক কেটলি ব্যবহারের সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে একটি তথ্য সামনে এসেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছিল না। গত জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কীভাবে রিসোর্টটির কার্যক্রম চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিঘটনার কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।
পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

বিশেষ করে কাঠের তৈরি স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমনপথ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা জরুরি।

ইনানীর এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় দায়দায়িত্ব নির্ধারণ, তদন্তের ফল প্রকাশ এবং পর্যটন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ইনানী রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু, একই পরিবারের ৬ জন

Update Time : ০৬:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে তিনতলা কাঠের রিসোর্টটিতে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে যায়।

প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে বিপাকে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে রিসোর্টের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই পরিবারের ছয়জন নিহত প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ফায়িজান আহম্মেদ (৫), সাবরিন (২৩) ও জেরিফ (১৮)।

এ ছাড়া নাফিসতা মীম (২৭) ও চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবিরের (৩৩) নামও নিহতদের তালিকায় এসেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সন্দেহ প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক কেটলি ব্যবহারের সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে একটি তথ্য সামনে এসেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছিল না। গত জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কীভাবে রিসোর্টটির কার্যক্রম চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিঘটনার কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।
পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

বিশেষ করে কাঠের তৈরি স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমনপথ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা জরুরি।

ইনানীর এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় দায়দায়িত্ব নির্ধারণ, তদন্তের ফল প্রকাশ এবং পর্যটন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।