Dhaka ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফসলি জমি ভরাটে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধংসের পথে

আব্দুর রাজ্জাক
  • Update Time : ১০:৫১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / ১৮ Time View

সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি::ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া আকবর বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এখন এলাকাবাসীর জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ফসলি জমি থেকে ডেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্রিজের আশপাশ ভরাট করায় পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে আশংঙ্কা করছেন সুশীল সমাজ। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ব্রিজটি লোপাড়া, চুন্টা, জয়ধরকান্দি ও তেলিকান্দি এলাকার বিস্তীর্ণ প্রান্তিক হাওরের ভরা বর্ষার পানি নিষ্কাশনের পথ। একই সঙ্গে এটি অরুয়াইল-সরাইল আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ফসলি জমি কেটে ডেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে। সেই বালু ব্রিজের আশপাশে ফেলে পানি চলাচলের পথ সংকোচিত করে ফেলেছে। ফলে বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। এলাকাবাসী জানায়, অল্প বৃষ্টিতেই যদি পানি জমে থাকে তাহলে বর্ষার সময় পুরো এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হবে। এতে ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের নিচে ও এক পাশজুড়ে বালুর স্তূপ কৃত্রিম ভাবে জমিয়ে রাখা রয়েছে। পানি চলাচলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক স্থানে পানি আটকে আছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে বর্ষার পানি দ্রুত হাওরে নেমে যেত, কিন্তু বর্তমানে মাটি ভরাটের কারণে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দৃশ্যমান এই প্রতিবন্ধকতা এখন সাধারণ মানুষের চোখে পড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে।

এলাকার কৃষকরা জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেলে কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে রাস্তার উপর চাপ বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী খাল বিল জলাশয় খনন করে পানির গতি বৃদ্ধি করন,

রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধংসে হুমায়ুন আজাহার গংদের প্রভাব, ডেজার বসিয়ে ফসলি জমি বিনষ্ঠ করে বালি উত্তোলন ও পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রভাবশালীরা দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ব্রিজের নিচ ও আশপাশ থেকে ভরাট অপসারণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ফসলি জমি ভরাটে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধংসের পথে

Update Time : ১০:৫১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি::ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া আকবর বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এখন এলাকাবাসীর জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ফসলি জমি থেকে ডেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্রিজের আশপাশ ভরাট করায় পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে আশংঙ্কা করছেন সুশীল সমাজ। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ব্রিজটি লোপাড়া, চুন্টা, জয়ধরকান্দি ও তেলিকান্দি এলাকার বিস্তীর্ণ প্রান্তিক হাওরের ভরা বর্ষার পানি নিষ্কাশনের পথ। একই সঙ্গে এটি অরুয়াইল-সরাইল আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ফসলি জমি কেটে ডেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে। সেই বালু ব্রিজের আশপাশে ফেলে পানি চলাচলের পথ সংকোচিত করে ফেলেছে। ফলে বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। এলাকাবাসী জানায়, অল্প বৃষ্টিতেই যদি পানি জমে থাকে তাহলে বর্ষার সময় পুরো এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হবে। এতে ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের নিচে ও এক পাশজুড়ে বালুর স্তূপ কৃত্রিম ভাবে জমিয়ে রাখা রয়েছে। পানি চলাচলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক স্থানে পানি আটকে আছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে বর্ষার পানি দ্রুত হাওরে নেমে যেত, কিন্তু বর্তমানে মাটি ভরাটের কারণে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দৃশ্যমান এই প্রতিবন্ধকতা এখন সাধারণ মানুষের চোখে পড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে।

এলাকার কৃষকরা জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেলে কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে রাস্তার উপর চাপ বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী খাল বিল জলাশয় খনন করে পানির গতি বৃদ্ধি করন,

রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধংসে হুমায়ুন আজাহার গংদের প্রভাব, ডেজার বসিয়ে ফসলি জমি বিনষ্ঠ করে বালি উত্তোলন ও পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রভাবশালীরা দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ব্রিজের নিচ ও আশপাশ থেকে ভরাট অপসারণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।