পর্যটন বাড়াতে গিয়ে দ্বীপের সর্বনাশ নয়
- Update Time : ০৯:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪ Time View
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রকৃতি ও পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় দেশের একটি নির্দিষ্ট দ্বীপ অঞ্চলকে ঘিরে দীর্ঘকাল ধরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। মূলত দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যেই এর আগে ১৯৯৯ সালে এই এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল অপরিকল্পিত মানুষের হস্তক্ষেপ এবং ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দ্বীপটির অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা।
সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন কোনোভাবেই এই ভঙ্গুর বা ভঙ্গুর দ্বীপের বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অপরিকল্পিত হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং অতিরিক্ত পর্যটক সমাগমের ফলে দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, কেবল বাণিজ্যিক মুনাফার কথা চিন্তা করে এই দ্বীপে পর্যটন সুবিধা বাড়াতে গেলে এর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হতে পারে। দ্বীপটির নিজস্ব প্রাকৃতিক ধারণক্ষমতা বিবেচনা না করে যত্রতত্র অবকাঠামো তৈরি করলে তা ভবিষ্যতে গোটা অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে। তাই যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বা পর্যটন প্রসারের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও কর্তৃপক্ষকে তাই পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রবাল প্রাচীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কেবল পরিবেশবান্ধব বা টেকসই পর্যটন মডেল গড়ে তোলা সম্ভব। তবেই দ্বীপটির প্রাকৃতিক সত্তা বজায় রেখে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
























