পুরুষ মডেল ভাড়া করে রোমান্টিক ছবি তুলছেন চীনা তরুণীরা
- Update Time : ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩ Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবেগীয় সাহচর্যের খোঁজে অভিনব এক ট্রেন্ডে ঝুঁকছেন চীনের তরুণীরা। সুঠাম দেহের তরুণ মডেলদের অর্থ দিয়ে ভাড়া করে তাঁদের সঙ্গে রোমান্টিক এবং প্রেমিকের অবয়বে কৃত্রিম ছবি তুলছেন তাঁরা। চীনের মূলধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে এই ট্রেন্ডটি। এসব ফটোশুটের পেছনে তরুণীরা ঘণ্টাপ্রতি সর্বোচ্চ আট হাজার ইউয়ান পর্যন্ত খরচ করছেন। এই বিশেষ সেবা পাওয়ার জন্য নারীরা বিভিন্ন স্টুডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নিজেদের পছন্দমতো প্যাকেজ বেছে নিচ্ছেন।
এই বিশেষ ফটোশুটগুলোতে হ্যান্ডশেক, আলিঙ্গন, গালে বা কপালে চুমুর ভঙ্গি কিংবা মডেলের সুঠাম দেহ স্পর্শ করার মতো ঘনিষ্ঠ পোজ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সম্প্রতি চীনের জনপ্রিয় লাইফস্টাইল ব্লগার শুয়ে ডিংগে দুজন পুরুষ মডেলের সঙ্গে মাত্র ত্রিশ মিনিটের একটি রোমান্টিক ফটোশুটের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করেন। স্টুডিওর ভেতরে তাঁদের দিয়ে নানা ঘনিষ্ঠ পোজের ছবি তোলেন চিত্রগ্রাহক। অভিজ্ঞতাটি অনলাইনে শেয়ার করে তিনি জানান যে নারী-কেন্দ্রিক সেবার এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে সমাজ। একইভাবে চেংদু শহরের বাসিন্দা ওয়েনজি তিন হাজার ইউয়ান খরচ করে এক কৃত্রিম ভালোবাসার গল্প সাজিয়ে ফটোশুট করেন। তিনি জানান যে মডেল তাঁর কাছে সুন্দর ছবি তৈরির একটি মাধ্যম মাত্র এবং এই ছবি তোলা মানে যেন একটি স্বপ্ন বুনে নেওয়া। একক জীবনের ফ্যান্টাসি পূরণ এবং হৃৎস্পন্দন বাড়ানো সেই দৃশ্যটির জন্যই তিনি মূলত অর্থ খরচ করেছেন। নানজিং শহরের মু ঝাও স্টুডিও দাবি করেছে যে তারা দেশে প্রথম পুরুষ মডেলদের নিয়ে এই কাপল-স্টাইল ফটোশুট ব্যবসা শুরু করে। স্টুডিওটির প্যাকেজগুলোর দাম সাত হাজার দুইশ ইউয়ান থেকে শুরু করে আঠাশ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত রয়েছে। এই প্যাকেজের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ একশো কুড়িটি ছবি এবং প্রয়োজনে পোশাক বদলের সুযোগ থাকে। মডেল হিসেবে সাধারণত পেশাদার কমার্শিয়াল মডেল অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নেওয়া হয়। তাঁদের উচ্চতা, রূপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী এবং অভিনয়ের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়। স্টুডিও প্রতিষ্ঠাতা মু ঝাও জানান যে ঘনিষ্ঠ পোজগুলো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও পেশাদার সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। গ্রাহকেরা যাতে কোনোভাবেই মডেলদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের নম্বর বা তথ্য আদান-প্রদান করতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে। এক দল নেটিজেন এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে মন্তব্য করেছেন যে নিজের টাকায় নিজের আনন্দ খুঁজে নেওয়াটাই আসল উপভোগ। যাঁদের প্রেমিক নেই, এটি তাঁদের ফ্যান্টাসি পূরণ করছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন যে একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ছবি তুলতে এত টাকা খরচ করার কোনো মানে হয় না, কারণ তাঁরা তো বন্ধু বা কোনো তারকাও নন। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে এটিকে শুধু নারী-কেন্দ্রিক সেবা বলা ভুল, কারণ এখানে নারীরা টাকা দিয়ে সাজগোজ করে ছবি তুলছেন আর পুরুষ মডেলরা কাজের বিনিময়ে সুবিধা পাচ্ছেন। তবে স্টুডিওর উদ্যোক্তারা মনে করেন যে এই প্রবণতা সময়ের চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।
স্টুডিও প্রতিষ্ঠাতা মু ঝাওয়ের মতে, চীনের নারীরা এখন নিজেদের রূপ, ইচ্ছা এবং আবেগীয় চাহিদার কথা প্রকাশ্যে বলতে কোনো দ্বিধা করছেন না। নিজের খুশির জন্য অর্থ খরচ করাকে তিনি মূলত নারীদের আত্মবিশ্বাসেরই একটি প্রতীক হিসেবে দেখছেন। দিন দিন এই ধরনের কৃত্রিম রোমান্টিক ফটোশুটের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতার একটি নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানুষ যখন আবেগগতভাবে একা হয়ে পড়ছে, তখন এই ধরনের বিকল্প সেবাগুলো সাময়িক মানসিক শান্তি ও আনন্দের জোগান দিচ্ছে। সবমিলিয়ে এই অভিনব ট্রেন্ডটি চীনের মূলধারার সংস্কৃতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

























