Dhaka ১২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে

Reporter Name
  • Update Time : ১০:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে কর্মহীন থাকার প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ একই সময়ে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতগুলো দক্ষ জনবলের তীব্র সংকটে ভুগছে। এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে যুবসমাজ হতাশায় দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বহুমুখী ত্রুটি এবং যুগের সাথে তাল মেলাতে না পারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক গবেষণার সুযোগের অভাব এবং মানসম্মত ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করছে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এর ফলে ডিগ্রি অর্জন করলেও একজন তরুণ পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

বর্তমান কর্মবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক পাঠ্যক্রমের কোনো মিল নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতের প্রকৃত চাহিদা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলস্বরূপ, সনদধারী বেকারের সংখ্যা বাড়লেও কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর্মীর অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাত্ত্বিক পড়াশোনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা গেলে শিক্ষিত বেকারের হার কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক খাতগুলো উপকৃত হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে

Update Time : ১০:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে কর্মহীন থাকার প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ একই সময়ে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতগুলো দক্ষ জনবলের তীব্র সংকটে ভুগছে। এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে যুবসমাজ হতাশায় দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বহুমুখী ত্রুটি এবং যুগের সাথে তাল মেলাতে না পারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক গবেষণার সুযোগের অভাব এবং মানসম্মত ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করছে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এর ফলে ডিগ্রি অর্জন করলেও একজন তরুণ পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

বর্তমান কর্মবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক পাঠ্যক্রমের কোনো মিল নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতের প্রকৃত চাহিদা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলস্বরূপ, সনদধারী বেকারের সংখ্যা বাড়লেও কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর্মীর অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাত্ত্বিক পড়াশোনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা গেলে শিক্ষিত বেকারের হার কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক খাতগুলো উপকৃত হবে।