Dhaka ০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, কৃষকদের জিম্মি করার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :: নওগাঁর মান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

সারসংকটের অজুহাত দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। এ ঘটনায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা থেকে গত ২৫ আগস্ট জারি করা এক পরিপত্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতাদের অনুমোদিত মূল ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারসংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।গত ২ নভেম্বর বিকেলে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলার ১১ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের চকগৌরী বাজারে গেলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে চলে যান।

এছাড়া সতীহাট, দেলুয়াবাড়ী ও চৌবাড়ীয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ৯ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গুসাইপুর গ্রামের কৃষক রিয়াজুর ইসলাম বলেন, “চার-পাঁচ দিন আগে দেলুয়াবাড়ী বাজারের একটি দোকান থেকে বাধ্য হয়ে প্রতি বস্তা ডিএপি সার ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে কিনেছি।”

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শায়লা শারমিন বলেন, “কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়মে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত মূল্য অবশ্যই মানতে হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে উপজেলার প্রতিটি বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, কৃষকদের জিম্মি করার অভিযোগ

Update Time : ১১:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :: নওগাঁর মান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

সারসংকটের অজুহাত দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। এ ঘটনায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা থেকে গত ২৫ আগস্ট জারি করা এক পরিপত্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতাদের অনুমোদিত মূল ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারসংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।গত ২ নভেম্বর বিকেলে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলার ১১ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের চকগৌরী বাজারে গেলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে চলে যান।

এছাড়া সতীহাট, দেলুয়াবাড়ী ও চৌবাড়ীয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ৯ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গুসাইপুর গ্রামের কৃষক রিয়াজুর ইসলাম বলেন, “চার-পাঁচ দিন আগে দেলুয়াবাড়ী বাজারের একটি দোকান থেকে বাধ্য হয়ে প্রতি বস্তা ডিএপি সার ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে কিনেছি।”

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শায়লা শারমিন বলেন, “কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়মে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত মূল্য অবশ্যই মানতে হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে উপজেলার প্রতিটি বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।