হরমুজে ভারত, চীন, কাতার ও ইরাককে ছাড় দিচ্ছে ইরান—নেপথ্যে কী
- Update Time : ০১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ১ Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন নৌ অবরোধের মাঝেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এমন সিদ্ধান্তের ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন এই জলপথ ব্যবহার করে অবাধে যাতায়াত করতে পারছে। সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমে এই বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। মূলত বর্তমান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এই কৌশল গ্রহণ করেছে তেহরান।
ইরানি আইনপ্রণেতার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধার আওতায় মূলত ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৌশলগত কারণে ভারত থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই তেহরান এই ছাড় দিয়েছে। তবে পারস্পরিক সমঝোতার অংশ হলেও ভারত ও চীনের জলযানগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ট্রানজিট ফি আদায় করছে ইরান। অন্যদিকে, কাতারকে কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই এই জলপথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যদিও ইরাকের ক্ষেত্রে ফি নেওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। দীর্ঘদিনের অবরোধের মুখে পড়ে পণ্যবিনিময় এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে বাণিজ্য পরিচালনা করা ইরানের জন্য নতুন কোনো কৌশল নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর এই চার দেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সরবরাহ গভীরভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় তেহরানের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, তার একটি বড় অংশই যায় চীন ও ভারতের মতো দেশের বাজারে। বিশেষ করে চীন হলো ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যারা দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে। এছাড়া ভারতের জন্যও এই অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি, যার বিনিময়ে তারা ইরানকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে আসছে। কাতারও তাদের জ্বালানি রপ্তানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে তেহরান এর আগে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিলেও যুদ্ধ শুরুর কিছু সপ্তাহ পর থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য শিথিলতা দেখাতে শুরু করে। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধের মুখে ইরানের এই কৌশল কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাছাড়া জাহাজের জাতীয়তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটির পতাকা, মালিকানা নাকি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনা করা হচ্ছে, তা এখনো অস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হওয়ায় এই জলপথে চলাচলকারী ছাড়প্রাপ্ত জলযানগুলোও শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিমুক্ত না থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।























