Dhaka ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহযোগিতা বাড়িয়েছে চীন

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত চায়না ইনস্টিটিউট ফর মেরিন অ্যাফেয়ার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দূরত্ব ও মতপার্থক্য ঘুচিয়ে বিশ্ব সমুদ্র ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত করতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বেইজিং। চলতি বছর এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে চীন। দেশটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের পঞ্চাশটিরও বেশি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতা সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া যৌথ উদ্যোগে চল্লিশের অধিক সামুদ্রিক গবেষণাকেন্দ্র ও আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। ছোট ও মাঝারি আকারের হলেও এসব কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর সমুদ্রবিষয়ক গবেষণা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইনি কাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে সবসময় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে চীন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিষয়টিকে তারা সবসময় সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং বৈশ্বিক সমুদ্র নীতিমালায় ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের এই নীতি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার সামুদ্রিক অণুজীব সম্পদের নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছে চীন। এসব অমূল্য নমুনা নিরাপদ রাখতে বিশেষ সংগ্রহশালা এবং সুবিশাল ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। গবেষকদের জন্য এসব নমুনা ও তথ্যের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত সেবাও চালু করেছে দেশটি, যা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহযোগিতা বাড়িয়েছে চীন

Update Time : ০৪:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত চায়না ইনস্টিটিউট ফর মেরিন অ্যাফেয়ার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দূরত্ব ও মতপার্থক্য ঘুচিয়ে বিশ্ব সমুদ্র ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত করতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বেইজিং। চলতি বছর এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে চীন। দেশটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের পঞ্চাশটিরও বেশি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতা সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া যৌথ উদ্যোগে চল্লিশের অধিক সামুদ্রিক গবেষণাকেন্দ্র ও আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। ছোট ও মাঝারি আকারের হলেও এসব কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর সমুদ্রবিষয়ক গবেষণা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইনি কাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে সবসময় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে চীন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিষয়টিকে তারা সবসময় সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং বৈশ্বিক সমুদ্র নীতিমালায় ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের এই নীতি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার সামুদ্রিক অণুজীব সম্পদের নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছে চীন। এসব অমূল্য নমুনা নিরাপদ রাখতে বিশেষ সংগ্রহশালা এবং সুবিশাল ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। গবেষকদের জন্য এসব নমুনা ও তথ্যের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত সেবাও চালু করেছে দেশটি, যা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।