বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাল
- Update Time : ০২:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানো হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে বাংলাদেশ এখন ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে এই বিশেষ মর্যাদা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নীত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনাগুলো ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর ফলে দেশের রপ্তানি খাত এবং সামগ্রিক শিল্পায়ন এই বাড়তি সময়ের সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে পারবে।
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নত দেশের বাজারে যেসব বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, উত্তরণের পর তা ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই তিন বছরের বর্ধিত সময় দেশের নীতি নির্ধারক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা বিশ্ববাজারের নতুন প্রতিযোগিতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক খাত এবং কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উত্তরণের এই সময়সীমা পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও সরকারের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই বর্ধিত সময়ের সদ্ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রক্রিয়াগুলো আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। সার্বিকভাবে, দেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষে এই সময় বৃদ্ধি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


























