দুই এসএমই কোম্পানির ১৭ কোটি টাকা কোথায় খরচ, তদন্তে নেমেছে বিএসইসি
- Update Time : ০৯:৪৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারের এসএমই বোর্ডের তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির সংগৃহীত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিউআইও বা যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করা ওয়েব কোটস এবং কৃষিবিদ সিড নামের কোম্পানি দুটির আর্থিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে এই দুই প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, এই দুটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ষোলো কোটি ষাট লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিড একা এগারো কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ওয়েব কোটস পাঁচ কোটি টাকা বাজার থেকে উত্তোলন করে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং চলতি মূলধন বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু সংগৃহীত এই বিশাল অঙ্কের মূলধন নির্ধারিত খাতে যথাযথভাবে খরচ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিএসইসি সম্প্রতি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে, যারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। কৃষিবিদ সিডের আর্থিক অনিয়ম তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মওদুদ মোমেন ও মোহাম্মদ রুমান হোসেনকে। অন্যদিকে ওয়েব কোটসের লেনদেন ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি যাচাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সিরাজুল ইসলাম ও ফারহানা ওয়ালেজা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশনায় তদন্ত দলকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ প্রাক্কলিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে যাচাই করবে তদন্ত দল। এছাড়া কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের সব ধরনের লেনদেন গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি আর্থিক বিবরণী পরীক্ষা করা হবে। অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রমও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। সিকিউরিটিজ আইন, বিধিবিধান বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের পেছনে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব কিংবা নিরীক্ষকদের কার কী ভূমিকা ছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, কৃষিবিদ সিড ২০২২ সালে এবং ওয়েব কোটস ২০২৪ সালে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। তালিকাভুক্তির আগে দেওয়া প্রতিশ্রুত পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করা হয়েছে কি না, এখন সেটিই নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন।
























