Dhaka ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের রাজনীতিতে নয়া আতঙ্ক ‘আরব ভোট’

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে আরব ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অভাবনীয় সাফল্য দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম নামের দল দুটি মিলে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জয়লাভ করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্টের ইতিহাসে এটি ফিলিস্তিনি আরবদের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন অর্জনের রেকর্ড। এর আগের নির্বাচনে তারা তুলনামূলক কম আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে তারা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোকে পেছনে ফেলে রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এই ঘটনাকে নির্বাচনি রাজনীতিতে একপ্রকার ভূকম্পনের সঙ্গে তুলনা করেছে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই উত্থান পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলি নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতি কমতির দিকে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অতীতে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও সর্বশেষ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপস্থিতি জাতীয় গড়ের হারকেও ছাড়িয়ে গেছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ায় তাদের এই বিপুল ভোটদান ইসরাইলের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলছে। কট্টর ডানপন্থি সরকারের বর্ণবাদী নীতি এবং আরববিদ্বেষী মনোভাবের তীব্র ক্ষোভ থেকেই মূলত ভোটাররা দলে দলে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধমূলক নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এবার ব্যালটের মাধ্যমেই জোরালো জবাব দিয়েছেন।

নির্বাচনে আরব ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতির কারণে প্রধান দুই ইহুদি জোটের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট—কারো পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিক অবতীর্ণ হয়েছে। আইজেনকোটের সামনে কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা থাকলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া কিংবা স্বাধীন কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের মতো বিষয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা আরব দলগুলোর এই রাজনৈতিক সাফল্যকে মেনে নিতে পারছে না এবং একে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারকে প্রথম দিন থেকেই অবৈধ ঘোষণা করার হুমকি দিয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর এই ঐতিহাসিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপেক্ষা করার দিন শেষ হয়ে এসেছে। আগামী দিনে নতুন সরকার গঠন কিংবা রাজনৈতিক দরকষাকষিতে এই আরব ভোটই ইসরাইলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ইসরাইলের রাজনীতিতে নয়া আতঙ্ক ‘আরব ভোট’

Update Time : ০৮:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে আরব ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অভাবনীয় সাফল্য দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম নামের দল দুটি মিলে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জয়লাভ করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্টের ইতিহাসে এটি ফিলিস্তিনি আরবদের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন অর্জনের রেকর্ড। এর আগের নির্বাচনে তারা তুলনামূলক কম আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে তারা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোকে পেছনে ফেলে রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এই ঘটনাকে নির্বাচনি রাজনীতিতে একপ্রকার ভূকম্পনের সঙ্গে তুলনা করেছে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই উত্থান পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলি নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতি কমতির দিকে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অতীতে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও সর্বশেষ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপস্থিতি জাতীয় গড়ের হারকেও ছাড়িয়ে গেছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ায় তাদের এই বিপুল ভোটদান ইসরাইলের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলছে। কট্টর ডানপন্থি সরকারের বর্ণবাদী নীতি এবং আরববিদ্বেষী মনোভাবের তীব্র ক্ষোভ থেকেই মূলত ভোটাররা দলে দলে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধমূলক নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এবার ব্যালটের মাধ্যমেই জোরালো জবাব দিয়েছেন।

নির্বাচনে আরব ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতির কারণে প্রধান দুই ইহুদি জোটের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট—কারো পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিক অবতীর্ণ হয়েছে। আইজেনকোটের সামনে কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা থাকলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া কিংবা স্বাধীন কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের মতো বিষয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা আরব দলগুলোর এই রাজনৈতিক সাফল্যকে মেনে নিতে পারছে না এবং একে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারকে প্রথম দিন থেকেই অবৈধ ঘোষণা করার হুমকি দিয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর এই ঐতিহাসিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপেক্ষা করার দিন শেষ হয়ে এসেছে। আগামী দিনে নতুন সরকার গঠন কিংবা রাজনৈতিক দরকষাকষিতে এই আরব ভোটই ইসরাইলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।