Dhaka ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬০% স্নাতক ডিগ্রিধারী যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে করছেন অন্য কাজ

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের জনমিতির ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সময় ঘনিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী দুই দশকের মধ্যে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশেষ সময়টিকে কাজে লাগাতে না পারলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও একটা বড় অংশের তরুণ সমাজ তাদের অর্জিত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশায় যুক্ত হতে পারছেন না। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী তাদের পঠিত বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে চাকরি পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এর ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অন্য খাতের বিভিন্ন কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিল্প কারখানার চাহিদার বড় ধরনের দূরত্ব থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুগোপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে গ্র্যাজুয়েটরা কর্মসংস্থানের বাজারে টিকতে পারছেন না। ফলে তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ তাদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জনমিতির এই সুবর্ণ সময়কে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর এই অবস্থাকে জনমিতির লভ্যাংশ হিসেবে পেতে হলে শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কার আনতে হবে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৬০% স্নাতক ডিগ্রিধারী যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে করছেন অন্য কাজ

Update Time : ০২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের জনমিতির ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সময় ঘনিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী দুই দশকের মধ্যে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশেষ সময়টিকে কাজে লাগাতে না পারলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও একটা বড় অংশের তরুণ সমাজ তাদের অর্জিত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশায় যুক্ত হতে পারছেন না। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী তাদের পঠিত বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে চাকরি পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এর ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অন্য খাতের বিভিন্ন কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শিল্প কারখানার চাহিদার বড় ধরনের দূরত্ব থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুগোপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে গ্র্যাজুয়েটরা কর্মসংস্থানের বাজারে টিকতে পারছেন না। ফলে তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ তাদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জনমিতির এই সুবর্ণ সময়কে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর এই অবস্থাকে জনমিতির লভ্যাংশ হিসেবে পেতে হলে শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কার আনতে হবে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।