Dhaka ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি রুটে বিধিনিষেধে বাতিল–স্থগিত ১৮৬ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশ থেকে চলাচলকারী শতাধিক ফ্লাইট বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হাজার হাজার প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরগুলোতে এই পরিচালনাগত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে চলাচলকারী বিমানগুলোর ওপরও। এর ফলে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে একদিকে যেমন বিমান সংস্থাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের কারণে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮৬টি ফ্লাইটের সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট রয়েছে ১০৯টি এবং বিভিন্ন দেশ ঘুরে যাওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর বড় একটি অংশ পরিচালনা করে থাকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদির স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো। এছাড়া বিদেশি বেশ কয়েকটি নামী এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট ফ্লাইটও এই শিডিউল বিপর্যয়ের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৫টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারলাইনসের ২৩টি এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, এয়ার ইন্ডিয়া, সালাম এয়ার এবং ইজিপ্ট এয়ারের ফ্লাইটগুলো রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে, যা সামগ্রিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতা তৈরি হয়। পর্যাপ্ত যাত্রীর অনুপস্থিতি এবং চলমান বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদ রুটের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীদের নিয়মিত আপডেট থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সৌদি রুটে বিধিনিষেধে বাতিল–স্থগিত ১৮৬ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী

Update Time : ১০:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশ থেকে চলাচলকারী শতাধিক ফ্লাইট বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হাজার হাজার প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরগুলোতে এই পরিচালনাগত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে চলাচলকারী বিমানগুলোর ওপরও। এর ফলে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে একদিকে যেমন বিমান সংস্থাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের কারণে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮৬টি ফ্লাইটের সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট রয়েছে ১০৯টি এবং বিভিন্ন দেশ ঘুরে যাওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর বড় একটি অংশ পরিচালনা করে থাকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদির স্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো। এছাড়া বিদেশি বেশ কয়েকটি নামী এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট ফ্লাইটও এই শিডিউল বিপর্যয়ের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।

সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৫টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারলাইনসের ২৩টি এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, এয়ার ইন্ডিয়া, সালাম এয়ার এবং ইজিপ্ট এয়ারের ফ্লাইটগুলো রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে, যা সামগ্রিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতা তৈরি হয়। পর্যাপ্ত যাত্রীর অনুপস্থিতি এবং চলমান বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদ রুটের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীদের নিয়মিত আপডেট থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।