সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তারে নিতে হবে আদালতের পূর্বানুমতি
- Update Time : ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪ Time View
আইন-আদালত ডেস্ক: সাংবাদিকতা বা সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশের কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পূর্বে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধিত খসড়া পর্যালোচনার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা এতে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। এর ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আইনি হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গঠিত ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে মূলত সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করেন যেন এই আইনটি কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা বাধাগ্রস্ত করার বা কাউকে হয়রানি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। এছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আলাদাভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব আসে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাস করার পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয় যাতে কোনো ধরনের আইনি অস্পষ্টতা না থাকে।
খসড়া আইনটিতে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখার পাশাপাশি কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানোর প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়। পাশাপাশি ব্লক করা কনটেন্ট পুনরায় চালুর আবেদন নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং যেকোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আগে লিখিত নোটিশ প্রদান ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার বিষয় নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।


























