Dhaka ১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শায় এক সপ্তাহে শিশুসহ ২২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে

মনির হোসেন
  • Update Time : ০৮:৪৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০৪ Time View

বেনাপোল প্রতিনিধি :: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এক জন শিশুসহ ২২ জন। এর মধ্যে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২ জন। সারাদেশের ডেঙ্গুর প্রকোপ গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে অনেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিনই চলাচল করে বিপুল সংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনে-রাতে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসছে। ফলে যানবাহনের ভেতরে মশা থাকলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে এই উপজেলায় মানুষের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করার ও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রুপ নিতে না পারে সেদিকে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারী রাখার জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহলের।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিষ্কার পানি জমা হয়, এ রকম পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল, চিপসের প্যাকেট বাড়ির আশপাশে না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। দু-তিন দিনের বেশি সময় যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও রোগীর স্বজনেরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে আমাদের চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে না। হাসপাতালে ডাক্তার কম, ফ্যান চলে না, লাইট জ্বলে না, গরমে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। বাড়ি থেকে ফ্যান আনতে হচ্ছে, চিকিৎসা নিতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়। সরকারের কাছে দাবি হাসপাতাল গুলোতে যেন একটু নজর দেয়, আমরা যাতে ভালো চিকিৎসা পেতে পারি।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের ন্যায় শার্শা উপজেলাতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে একটি ৩ বছরের একটি শিশু ও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ সংখ্যাটি অনেক বেশি। এছাড়াও অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত লোকজন বাসায় ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এলাকার সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়া, পাশাপাশি পরিস্কার পরিছন্নতা থাকা, মশারি ব্যবহার করা ও জ্বর দেখা দিলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের ন্যায় এই উপজেলাতে ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্তÍ রোগী বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধন স্প্রে পর্যাপ্ত রয়েছে। ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন স্প্রে করার কাজ চলমান রেখেছি। পরিস্কার পরিছন্নতা কার্যক্রমও চলমান আছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় বিল্ডিং এর মালিকদের সচেতন থাকতে হবে। মানুষদেরও সর্তকতার সাথে চলাচল করতে হবে। সরকারের ও প্রশাসনিক যে সব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ যা যা প্রয়োজন সেটা উপজেলা প্রশাসন করবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শার্শায় এক সপ্তাহে শিশুসহ ২২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে

Update Time : ০৮:৪৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি :: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এক জন শিশুসহ ২২ জন। এর মধ্যে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২ জন। সারাদেশের ডেঙ্গুর প্রকোপ গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে অনেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিনই চলাচল করে বিপুল সংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনে-রাতে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসছে। ফলে যানবাহনের ভেতরে মশা থাকলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে এই উপজেলায় মানুষের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করার ও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রুপ নিতে না পারে সেদিকে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারী রাখার জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহলের।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিষ্কার পানি জমা হয়, এ রকম পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল, চিপসের প্যাকেট বাড়ির আশপাশে না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। দু-তিন দিনের বেশি সময় যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও রোগীর স্বজনেরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে আমাদের চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে না। হাসপাতালে ডাক্তার কম, ফ্যান চলে না, লাইট জ্বলে না, গরমে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। বাড়ি থেকে ফ্যান আনতে হচ্ছে, চিকিৎসা নিতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়। সরকারের কাছে দাবি হাসপাতাল গুলোতে যেন একটু নজর দেয়, আমরা যাতে ভালো চিকিৎসা পেতে পারি।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের ন্যায় শার্শা উপজেলাতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে একটি ৩ বছরের একটি শিশু ও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ সংখ্যাটি অনেক বেশি। এছাড়াও অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত লোকজন বাসায় ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এলাকার সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়া, পাশাপাশি পরিস্কার পরিছন্নতা থাকা, মশারি ব্যবহার করা ও জ্বর দেখা দিলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের ন্যায় এই উপজেলাতে ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্তÍ রোগী বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধন স্প্রে পর্যাপ্ত রয়েছে। ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন স্প্রে করার কাজ চলমান রেখেছি। পরিস্কার পরিছন্নতা কার্যক্রমও চলমান আছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় বিল্ডিং এর মালিকদের সচেতন থাকতে হবে। মানুষদেরও সর্তকতার সাথে চলাচল করতে হবে। সরকারের ও প্রশাসনিক যে সব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ যা যা প্রয়োজন সেটা উপজেলা প্রশাসন করবে।