Dhaka ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায়

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

আইন-আদালত ডেস্ক: দেশের বিচার ইতিহাসে এক বিরল ও যুগান্তকারী রায়ে রাসেল লজ নামক একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ অবসায়নের নির্দেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গ্রাহকদের সঙ্গে নানা ধরনের প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গ ও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সর্বোচ্চ আদালত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় থাকা এই ডেভেলপার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দেওয়া চূড়ান্ত রায়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে যে, এই ঐতিহাসিক রায় আবাসন খাতের অসদুপায় অবলম্বনকারী ও প্রতারক চক্রগুলোর জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলার বিচারিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, পল্টনের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানাকে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে একই ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অন্য একটি সাইনবোর্ড ঝুলছিল। মূলত এনায়েত করিম নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট এই নামসর্বস্ব কোম্পানিটিকে ব্যবহার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। অন্যের সম্পত্তিতে অবৈধ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিরীহ মানুষ এবং বিশিষ্ট একটি পরিবারের মূল্যবান সম্পত্তি ও সময় নষ্ট করা হয়েছে বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সহযোগীরা জড়িত ছিল। মূল সম্পত্তির মালিক ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক সৈয়দ আব্দুল মালেক এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়। এনায়েত করিম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই পরিবারটির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এমনকি প্রবীণ এই চিকিৎসককে নানা অপবাদ দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র চিকিৎসক সৈয়দ মোস্তফা মালেক রুমির বিরুদ্ধেও মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রাখা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর নিপীড়নের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট হত্যা মামলা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশি প্রতিবেদনে চিকিৎসক মোস্তফা মালেক রুমিকে ওই মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সর্বোচ্চ আদালত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের পক্ষেই উচ্ছেদ মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। সাধারণ গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া কাগজপত্রের আশ্রয় নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ডেভেলপার কোম্পানিটির অবসায়ন এখন চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায়

Update Time : ০৯:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: দেশের বিচার ইতিহাসে এক বিরল ও যুগান্তকারী রায়ে রাসেল লজ নামক একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ অবসায়নের নির্দেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গ্রাহকদের সঙ্গে নানা ধরনের প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গ ও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সর্বোচ্চ আদালত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় থাকা এই ডেভেলপার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দেওয়া চূড়ান্ত রায়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে যে, এই ঐতিহাসিক রায় আবাসন খাতের অসদুপায় অবলম্বনকারী ও প্রতারক চক্রগুলোর জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলার বিচারিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, পল্টনের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানাকে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে একই ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অন্য একটি সাইনবোর্ড ঝুলছিল। মূলত এনায়েত করিম নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট এই নামসর্বস্ব কোম্পানিটিকে ব্যবহার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। অন্যের সম্পত্তিতে অবৈধ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিরীহ মানুষ এবং বিশিষ্ট একটি পরিবারের মূল্যবান সম্পত্তি ও সময় নষ্ট করা হয়েছে বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সহযোগীরা জড়িত ছিল। মূল সম্পত্তির মালিক ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক সৈয়দ আব্দুল মালেক এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়। এনায়েত করিম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই পরিবারটির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এমনকি প্রবীণ এই চিকিৎসককে নানা অপবাদ দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং তার জ্যেষ্ঠ পুত্র চিকিৎসক সৈয়দ মোস্তফা মালেক রুমির বিরুদ্ধেও মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রাখা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর নিপীড়নের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট হত্যা মামলা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশি প্রতিবেদনে চিকিৎসক মোস্তফা মালেক রুমিকে ওই মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সর্বোচ্চ আদালত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের পক্ষেই উচ্ছেদ মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। সাধারণ গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া কাগজপত্রের আশ্রয় নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ডেভেলপার কোম্পানিটির অবসায়ন এখন চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে।