Dhaka ০১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যবিত্ত ভাঙছে, রাষ্ট্র কি ভালো আছে

Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

মতামত ডেস্ক: অব্যাহত মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের ফলে গত কয়েক মাসে সাধারণ মানুষের সামান্য সঞ্চয়টুকুও শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নানা সংকটের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে শুরু করায় নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যবিত্তের মধ্যে একধরনের পতনের ভয় বা মানসিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য কিছু সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও এবং ধনীরা প্রভাব খাটাতে সক্ষম হলেও, মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিঃশব্দে সব কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের লাইনে দাঁড়াতে যেমন লজ্জা পায়, তেমনি সুপারশপ থেকে ইচ্ছেমতো কেনাকাটা করতেও হিমশিম খায়। ভবিষ্যৎ সুরক্ষার শেষ ভরসা হিসেবে পরিচিত জাতীয় সঞ্চয়পত্র ভেঙে অনেকে বর্তমান সংসার চালাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তরুণ সমাজ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যবিত্তদের মধ্যে নানা ধরনের হতাশা ও বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং বেকারত্বের উচ্চ হারের কারণে যুব সমাজের একটি অংশ অনিশ্চিত পেশার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের অস্থায়ী পেশা এবং অনিশ্চিত আয়ের কারণে গঠিত পতনশীল শ্রেণি সমাজে এক ধরনের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, সুযোগসন্ধানী একটি গোষ্ঠী পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে ব্যস্ত থাকলেও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহিষ্ণুতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি মধ্যবিত্তের নৈতিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ট্যাগিং সংস্কৃতি ও ভার্চুয়াল ঘৃণা শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংসতা এবং গণপিটুনির মতো অপরাধের রূপ নিচ্ছে। হতাশা থেকে তৈরি হওয়া এই সামাজিক আগ্রাসন রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংহতিকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রের সুস্থতা নির্ভর করে মধ্যবিত্তের ভালো থাকার ওপর, তাই বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যবিত্তের দুর্দশা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে ভালো নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মধ্যবিত্ত ভাঙছে, রাষ্ট্র কি ভালো আছে

Update Time : ১০:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: অব্যাহত মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের ফলে গত কয়েক মাসে সাধারণ মানুষের সামান্য সঞ্চয়টুকুও শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নানা সংকটের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে শুরু করায় নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যবিত্তের মধ্যে একধরনের পতনের ভয় বা মানসিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য কিছু সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও এবং ধনীরা প্রভাব খাটাতে সক্ষম হলেও, মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিঃশব্দে সব কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের লাইনে দাঁড়াতে যেমন লজ্জা পায়, তেমনি সুপারশপ থেকে ইচ্ছেমতো কেনাকাটা করতেও হিমশিম খায়। ভবিষ্যৎ সুরক্ষার শেষ ভরসা হিসেবে পরিচিত জাতীয় সঞ্চয়পত্র ভেঙে অনেকে বর্তমান সংসার চালাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তরুণ সমাজ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যবিত্তদের মধ্যে নানা ধরনের হতাশা ও বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং বেকারত্বের উচ্চ হারের কারণে যুব সমাজের একটি অংশ অনিশ্চিত পেশার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের অস্থায়ী পেশা এবং অনিশ্চিত আয়ের কারণে গঠিত পতনশীল শ্রেণি সমাজে এক ধরনের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, সুযোগসন্ধানী একটি গোষ্ঠী পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে ব্যস্ত থাকলেও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহিষ্ণুতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি মধ্যবিত্তের নৈতিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের ট্যাগিং সংস্কৃতি ও ভার্চুয়াল ঘৃণা শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে সহিংসতা এবং গণপিটুনির মতো অপরাধের রূপ নিচ্ছে। হতাশা থেকে তৈরি হওয়া এই সামাজিক আগ্রাসন রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংহতিকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রের সুস্থতা নির্ভর করে মধ্যবিত্তের ভালো থাকার ওপর, তাই বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যবিত্তের দুর্দশা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে ভালো নেই।