Dhaka ১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপির স্পোর্টস উইংয়ের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে ফাহিম-নাজমুল

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

খেলা ডেস্ক: দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নতুন ক্রীড়া উইং গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের খেলাধুলাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে একটি স্বাধীন ও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও নানা অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নয়া গঠিত এই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ও প্রখ্যাত ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে এই সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আরেক সাবেক পরিচালক এম. নাজমুল ইসলাম সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট পাঁচজনকে এই নবগঠিত সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক দেশের বিভিন্ন খাতের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান যে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স কোনো দলীয় অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করবে না, বরং এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা কেবল এই প্ল্যাটফর্মের ভালো কাজের ক্ষেত্রে আদর্শিক ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদান করবে। সংগঠনের কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ত্রুটি ও দুর্বলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। জনসংখ্যার অনুপাতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন নেতারা। ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে দেশের খেলাধুলাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এই আংশিক কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি আগামী ছয় মাস দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে কাজ করবে এবং মাঠপর্যায়ের নানা সমস্যা দূর করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

এনসিপির স্পোর্টস উইংয়ের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে ফাহিম-নাজমুল

Update Time : ০৮:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

খেলা ডেস্ক: দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নতুন ক্রীড়া উইং গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের খেলাধুলাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে একটি স্বাধীন ও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও নানা অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নয়া গঠিত এই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ও প্রখ্যাত ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে এই সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আরেক সাবেক পরিচালক এম. নাজমুল ইসলাম সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট পাঁচজনকে এই নবগঠিত সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক দেশের বিভিন্ন খাতের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান যে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স কোনো দলীয় অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করবে না, বরং এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা কেবল এই প্ল্যাটফর্মের ভালো কাজের ক্ষেত্রে আদর্শিক ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদান করবে। সংগঠনের কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ত্রুটি ও দুর্বলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। জনসংখ্যার অনুপাতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন নেতারা। ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে দেশের খেলাধুলাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এই আংশিক কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি আগামী ছয় মাস দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে কাজ করবে এবং মাঠপর্যায়ের নানা সমস্যা দূর করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।