Dhaka ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে, কারা পাবেন, আয় কেমন হতে পারে

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলার পর অবশেষে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা জারির পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আবেদন ফরম বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কেবল আবেদন করলেই সনদ মিলবে না, বরং বাহনটির কারিগরি মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিবন্ধন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে আঠারো বছর হতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার জন্য আবেদন করা যাবে যা এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করার পর বুয়েটের কারিগরি মানদণ্ড এবং ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে। এছাড়া পুরোনো রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ নিয়ে নিবন্ধনের আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী বাহনগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ফি এবং আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই যাত্রীবিশিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর ক্ষেত্রে দশ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে যার বার্ষিক নবায়ন ফি যথাক্রমে চার ও পাঁচ হাজার টাকা। এসব রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় গতি আরও কমিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা শহরকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করা হবে এবং এক অঞ্চলের রিকশা অন্য অঞ্চলে চলাচল করতে পারবে না।

বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা নতুন নকশায় হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক, সিগন্যাল লাইট ও স্থায়ী হেডলাইটের মতো নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। এই আধুনিক মানের একেকটি রিকশা তৈরি এবং ব্যাটারি কিনতে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, কঠোর তদারকি ও নিয়মের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর যান চলাচল ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে, কারা পাবেন, আয় কেমন হতে পারে

Update Time : ০৮:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলার পর অবশেষে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা জারির পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আবেদন ফরম বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কেবল আবেদন করলেই সনদ মিলবে না, বরং বাহনটির কারিগরি মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিবন্ধন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে আঠারো বছর হতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার জন্য আবেদন করা যাবে যা এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করার পর বুয়েটের কারিগরি মানদণ্ড এবং ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে। এছাড়া পুরোনো রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ নিয়ে নিবন্ধনের আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী বাহনগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ফি এবং আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই যাত্রীবিশিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর ক্ষেত্রে দশ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে যার বার্ষিক নবায়ন ফি যথাক্রমে চার ও পাঁচ হাজার টাকা। এসব রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় গতি আরও কমিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা শহরকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করা হবে এবং এক অঞ্চলের রিকশা অন্য অঞ্চলে চলাচল করতে পারবে না।

বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা নতুন নকশায় হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক, সিগন্যাল লাইট ও স্থায়ী হেডলাইটের মতো নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। এই আধুনিক মানের একেকটি রিকশা তৈরি এবং ব্যাটারি কিনতে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, কঠোর তদারকি ও নিয়মের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর যান চলাচল ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ হবে।