সুন্দরবনে দস্যুতা: ‘দশ টাকার একটা নোট পেতে দিতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা’
- Update Time : ০৭:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ২ Time View
জাতীয় ডেস্ক: দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সুন্দরবন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে জলদস্যু ও বনদস্যুদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বনের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় জেলেরা। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে বনে প্রবেশ করা সাধারণ মানুষ এখন নিয়মিতভাবেই সশস্ত্র দস্যুদের হামলার মুখে পড়ছেন। এতে পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও বাওয়ালিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দস্যুরা নদী ও খালের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্টের মতো অবস্থান নিয়ে নির্বিচারে চাঁদা আদায় করছে। সামান্য টাকার নোট লেনদেনের জন্যও হাজার হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার নজির রয়েছে বলে তারা জানান। দস্যুদের এই লাগামহীন চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে অনেক জেলে এখন সুন্দরবনে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে উপকূলের বহু পরিবার তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযানের মুখে সুন্দরবনের জলদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন সময়ে তৎকালীন সরকারের নানামুখী উদ্যোগে অনেক বড় বাহিনী মূলধারায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসনিক নজরদারি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগ নিয়ে নতুন ও পুরোনো অপরাধী চক্রগুলো আবার সংগঠিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে যৌথ অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দস্যুতা অতীতের মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।























