শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নিষিদ্ধ দলের ষড়যন্ত্র সফল হবে না: মাহদী আমিন
- Update Time : ০৩:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩ Time View
জাতীয় ডেস্ক: তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল কিংবা অপশক্তিকে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, একটি মহল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প খাতে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অথচ দেশের অর্থনীতি এবং লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর।
পোশাকশিল্পের পটভূমি তুলে ধরে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই মূলত বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের যুগান্তকারী যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারও এই খাতের টেকসই বিকাশ এবং শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমিকবান্ধব সরকার বর্তমানে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন উৎসবের সময়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করে আসছে।
শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্পের সার্বিক সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিয়ে এবং নাশকতার পথ বেছে নিয়ে শ্রমিকদের যৌক্তিক বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করছে। বিশেষ করে কারখানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের গাড়ি ও সরকারি স্থাপনায় আক্রমণের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই শ্রমিকদের প্রকৃত কল্যাণের সঙ্গে যায় না, বরং এটি সম্পূর্ণ শ্রমিক স্বার্থবিরোধী।
এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে থাকা পলাতক অপশক্তির নানা অপতৎপরতার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে দিনশেষে সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়বেন সাধারণ শ্রমিকরাই। এর ফলে দেশে বেকারত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের সব অপচেষ্টা শক্ত হাতে দমন করা হবে। নাশকতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি কিংবা উসকানিতে কান না দিয়ে সংযত থাকতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্পের সামগ্রিক বাস্তবতা এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেকোনো যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার সবসময় শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকদের ঘামে গড়া এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।





















