Dhaka ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন করে সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে সাতটি পরিবহন কোম্পানির অধীনে মোট আটশ একষট্টিটি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় দুইশ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ উভয় ধরনের বাস চলাচল করবে, যা নগরবাসীর যাতায়াতকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিবহন খাতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সাতটি রুটের মধ্যে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, টঙ্গী থেকে আজিমপুর এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর এবং মিরপুর-১ থেকে কাকলী-বনানী সার্কুলার রুটেও বাসগুলো চলাচল করবে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির অধীনে যেমন ভিআইপি সিটি পরিবহন, ঢাকা সিটি পরিবহন, চিড়িয়াখানা সিটি পরিবহন এবং রমজান আলী সিটি পরিবহনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এই বহরে বাস পরিচালনা করবে। প্রতিটি রুটের জন্য সুনির্দিষ্ট সংখ্যক বাস বরাদ্দ করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়।

নতুন এই নিয়মের আওতায় বাস পরিচালনার জন্য ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাস সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাড়ির সামনে ও পেছনে ডিজিটাল বোর্ডে রুট নম্বর, গন্তব্য ও ক্রমিক নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাসের ভেতরে যাত্রাপথের স্টপেজের তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে এবং চালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। এছাড়া রাস্তায় যত্রতত্র ওভারটেকিং ও অন্য গাড়ির চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন। অতীতে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কারণে এই খাতের সংস্কার কাজ বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়। পর্যায়ক্রমে ঢাকার বত্রিশটি রুটে এই শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বিস্তার লাভ করবে এবং প্রতিটি রুটের বাসগুলোর জন্য আলাদা রঙের মাধ্যমে পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাজধানীতে ৭ কোম্পানির অধীনে চালু হলো ৮৬১ বাস, চলবে সাত রুটে

Update Time : ০৩:০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন করে সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে সাতটি পরিবহন কোম্পানির অধীনে মোট আটশ একষট্টিটি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় দুইশ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ উভয় ধরনের বাস চলাচল করবে, যা নগরবাসীর যাতায়াতকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিবহন খাতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সাতটি রুটের মধ্যে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, টঙ্গী থেকে আজিমপুর এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর এবং মিরপুর-১ থেকে কাকলী-বনানী সার্কুলার রুটেও বাসগুলো চলাচল করবে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির অধীনে যেমন ভিআইপি সিটি পরিবহন, ঢাকা সিটি পরিবহন, চিড়িয়াখানা সিটি পরিবহন এবং রমজান আলী সিটি পরিবহনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এই বহরে বাস পরিচালনা করবে। প্রতিটি রুটের জন্য সুনির্দিষ্ট সংখ্যক বাস বরাদ্দ করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়।

নতুন এই নিয়মের আওতায় বাস পরিচালনার জন্য ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাস সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাড়ির সামনে ও পেছনে ডিজিটাল বোর্ডে রুট নম্বর, গন্তব্য ও ক্রমিক নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাসের ভেতরে যাত্রাপথের স্টপেজের তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে এবং চালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। এছাড়া রাস্তায় যত্রতত্র ওভারটেকিং ও অন্য গাড়ির চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন। অতীতে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কারণে এই খাতের সংস্কার কাজ বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়। পর্যায়ক্রমে ঢাকার বত্রিশটি রুটে এই শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বিস্তার লাভ করবে এবং প্রতিটি রুটের বাসগুলোর জন্য আলাদা রঙের মাধ্যমে পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।