Dhaka ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মার পানি আদায়ে ছাড় নয়, প্রয়োজনে আবারও লংমার্চ: আখতার

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

রাজনীতি ডেস্ক: পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সম্প্রতি রাজশাহীর কাটাখালীতে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, পদ্মার পানি কেবল সাধারণ কোনো জলাধার নয়, এটি এ দেশের মানুষের জীবন ও অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই অস্তিত্ব রক্ষাকবচ অর্জনে প্রয়োজনে ইতিহাসের বিখ্যাত লংমার্চের আদলে ফের রাজপথে নামতে দ্বিধা করবেন না তারা।

আসছে ডিসেম্বর মাসে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে উল্লেখ করে এই রাজনীতিবিদ বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তি নবায়ন বা ন্যায্য পানির দাবি আদায়ের বিষয়টি এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অতীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মায় পানির প্রবাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যার জেরে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার শাখা ও উপনদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ছে দেশের কৃষিখাত এবং জীববৈচিত্র্য। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের খুলনা এলাকায় নদীগুলোতে উজান থেকে মিষ্টি পানি না আসায় সমুদ্রের নোনা পানি প্রবেশ করে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে।

বাংলাদেশের কৃষি ও জনপদ ধ্বংস করার যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে বলে জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ অঞ্চলের পূর্বপুরুষেরা ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই একই ঐক্য বজায় রেখে অধিকার আদায় করতে হবে। পানির অধিকারের প্রশ্নে দেশবাসী কোনো ধরনের অন্যায় বা বঞ্চনা মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পথসভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আখতার হোসেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে একধরনের নতুন রাজনৈতিক কৌশল বা দুরভিসন্ধি করা হচ্ছে, যে বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে বা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো গোষ্ঠী ফায়দা লোটার চেষ্টা করলে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ তা কখনো সফল হতে দেবে না বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পদ্মার পানি আদায়ে ছাড় নয়, প্রয়োজনে আবারও লংমার্চ: আখতার

Update Time : ০৩:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সম্প্রতি রাজশাহীর কাটাখালীতে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, পদ্মার পানি কেবল সাধারণ কোনো জলাধার নয়, এটি এ দেশের মানুষের জীবন ও অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই অস্তিত্ব রক্ষাকবচ অর্জনে প্রয়োজনে ইতিহাসের বিখ্যাত লংমার্চের আদলে ফের রাজপথে নামতে দ্বিধা করবেন না তারা।

আসছে ডিসেম্বর মাসে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে উল্লেখ করে এই রাজনীতিবিদ বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তি নবায়ন বা ন্যায্য পানির দাবি আদায়ের বিষয়টি এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অতীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মায় পানির প্রবাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যার জেরে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার শাখা ও উপনদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ছে দেশের কৃষিখাত এবং জীববৈচিত্র্য। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের খুলনা এলাকায় নদীগুলোতে উজান থেকে মিষ্টি পানি না আসায় সমুদ্রের নোনা পানি প্রবেশ করে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে।

বাংলাদেশের কৃষি ও জনপদ ধ্বংস করার যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে বলে জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ অঞ্চলের পূর্বপুরুষেরা ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই একই ঐক্য বজায় রেখে অধিকার আদায় করতে হবে। পানির অধিকারের প্রশ্নে দেশবাসী কোনো ধরনের অন্যায় বা বঞ্চনা মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পথসভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আখতার হোসেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে একধরনের নতুন রাজনৈতিক কৌশল বা দুরভিসন্ধি করা হচ্ছে, যে বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে বা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো গোষ্ঠী ফায়দা লোটার চেষ্টা করলে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ তা কখনো সফল হতে দেবে না বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন।