Dhaka ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের পর ট্রাম্পের মুখোমুখি ডেমোক্র্যাটরা, বিভক্ত সরকারের পথে ওয়াশিংটন

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এই ফলাফলের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে ওয়াশিংটনে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়া বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে, যেখানে সিনেটে অন্তত ৫৪-৪৪ আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও নিজেদের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে নিয়েছে তারা। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন ট্রাম্প কখনোই ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হননি। ফলে এবার তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোতে হবে।

নির্বাচনে বড় জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি ও ভুল নীতির নেতিবাচক দিকগুলো মার্কিন নাগরিকরা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন। জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে তারা কাজ করবেন। একই সঙ্গে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন বসার আগেই ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অজনপ্রিয় সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রাভিযান ঠেকানোর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিশেষ রাজনৈতিক টুপির ছবি প্রকাশ করে তিনি কংগ্রেসের যেকোনো পদক্ষেপে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা জন থুনও ট্রাম্পের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো বামপন্থী ও চরমপন্থা নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

এদিকে প্রথাগত রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও অভাবনীয় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষ করে টেক্সাসে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর সিনেট আসন দখল করেছে দলটি, যা রক্ষণশীল রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। নতুন বছরের শুরুতে কংগ্রেসের নতুন অধিবেশন শুরু হলে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার ঘনিষ্টজনদের বিভিন্ন কার্যক্রম তদন্তে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিদায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমেই নিজেদের রক্ষণশীল এজেন্ডাগুলো পাস করিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুঁজছে বর্তমান রিপাবলিকান প্রশাসন। সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের দ্বন্দ্বে আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার পূর্বাভাস দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নির্বাচনের পর ট্রাম্পের মুখোমুখি ডেমোক্র্যাটরা, বিভক্ত সরকারের পথে ওয়াশিংটন

Update Time : ০২:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এই ফলাফলের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে ওয়াশিংটনে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়া বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তীব্র জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে, যেখানে সিনেটে অন্তত ৫৪-৪৪ আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও নিজেদের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে নিয়েছে তারা। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন ট্রাম্প কখনোই ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হননি। ফলে এবার তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোতে হবে।

নির্বাচনে বড় জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি ও ভুল নীতির নেতিবাচক দিকগুলো মার্কিন নাগরিকরা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন। জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে তারা কাজ করবেন। একই সঙ্গে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন বসার আগেই ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অজনপ্রিয় সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রাভিযান ঠেকানোর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিশেষ রাজনৈতিক টুপির ছবি প্রকাশ করে তিনি কংগ্রেসের যেকোনো পদক্ষেপে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা জন থুনও ট্রাম্পের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো বামপন্থী ও চরমপন্থা নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

এদিকে প্রথাগত রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও অভাবনীয় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষ করে টেক্সাসে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর সিনেট আসন দখল করেছে দলটি, যা রক্ষণশীল রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। নতুন বছরের শুরুতে কংগ্রেসের নতুন অধিবেশন শুরু হলে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার ঘনিষ্টজনদের বিভিন্ন কার্যক্রম তদন্তে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিদায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমেই নিজেদের রক্ষণশীল এজেন্ডাগুলো পাস করিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুঁজছে বর্তমান রিপাবলিকান প্রশাসন। সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের দ্বন্দ্বে আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার পূর্বাভাস দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।