নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
- Update Time : ০৮:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫ Time View
জাতীয় ডেস্ক: দেশের সব মানুষের জন্য মানসম্মত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ সম্মেলনকক্ষে ফোর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ বা এফএবি আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, খাদ্য মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার এবং সংবিধান অনুযায়ী এর জোগান দেওয়া রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে একটি সুসংহত কর্মপরিকল্পনা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
খাদ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান খাদ্যব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও জনস্বাস্থ্যবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুসহ সমাজের পুষ্টিহীনতায় ভোগা জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট চাহিদা পূরণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। খাদ্যের পুষ্টিগুণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজন কার্যক্রম আরও বেশি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এই মহৎ উদ্যোগ সফল করতে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি, কার্যক্রমের সঠিক সমন্বয় এবং বাস্তবসম্মত কৌশল প্রণয়নের তাগিদ দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম খাদ্য খাতের সুব্যবস্থাপনার স্বার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করেন, কার্যক্রমের সুষম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় দ্রুত করার জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে সরাসরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে এর সুফল ভোগ করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম টেকসই করার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি, খাদ্য অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি পুষ্টিবিদরা এই আলোচনায় অংশ নেন। বক্তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে সেমিনারটির সমাপ্তি ঘটে।






















