Dhaka ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের ভেতরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি পশ্চিম জেরুজালেমে নিজ দলের কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রকাশ্য বিরোধী কোনো আরব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

নির্বাচনী ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর বর্তমান মেয়াদে ইসরায়েল এমন কিছু ঐতিহাসিক সামরিক ও নিরাপত্তাগত সাফল্য অর্জন করেছে যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং লেবানন ও সিরিয়ার অভ্যন্তরে গভীর নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশটির ওপর ঝুলে থাকা তাৎক্ষণিক অস্তিত্বের সংকট সফলভাবে দূর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনে তাদের চরম দুর্বল অবস্থায় ফেলা হয়েছে এবং বর্তমান সময়ে ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের কাছ থেকে স্থায়ী নিরাপত্তা হুমকি চিরতরে মুছে ফেলার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এখন ইসরায়েলের সামনে রয়েছে। বিগত দিনে হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নির্মূল করার যে সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা সামনেও বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ও বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট আসন সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস বলছে, লিকুদ পার্টি পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বটে, তবে সরকার গঠনের পথ মসৃণ করতে তাদের বেশ কটি কঠিন রাজনৈতিক সমঝোতায় যেতে হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফল হাতে আসার পর জোট গঠন ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

Update Time : ০৩:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের ভেতরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি পশ্চিম জেরুজালেমে নিজ দলের কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রকাশ্য বিরোধী কোনো আরব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

নির্বাচনী ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর বর্তমান মেয়াদে ইসরায়েল এমন কিছু ঐতিহাসিক সামরিক ও নিরাপত্তাগত সাফল্য অর্জন করেছে যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং লেবানন ও সিরিয়ার অভ্যন্তরে গভীর নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশটির ওপর ঝুলে থাকা তাৎক্ষণিক অস্তিত্বের সংকট সফলভাবে দূর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনে তাদের চরম দুর্বল অবস্থায় ফেলা হয়েছে এবং বর্তমান সময়ে ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের কাছ থেকে স্থায়ী নিরাপত্তা হুমকি চিরতরে মুছে ফেলার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এখন ইসরায়েলের সামনে রয়েছে। বিগত দিনে হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নির্মূল করার যে সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা সামনেও বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ও বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট আসন সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস বলছে, লিকুদ পার্টি পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বটে, তবে সরকার গঠনের পথ মসৃণ করতে তাদের বেশ কটি কঠিন রাজনৈতিক সমঝোতায় যেতে হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফল হাতে আসার পর জোট গঠন ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।