Dhaka ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গল্প-উপন্যাস পড়া কি ইসলামে নিষিদ্ধ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে গল্প বা উপন্যাস পড়ার বিষয়টির কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং এসব সাহিত্যকর্ম একজন মানুষের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলছে এবং এর ভেতরের বিষয়বস্তু কেমন, তার ওপর নির্ভর করে এর ইসলামসম্মত বৈধতা নির্ধারিত হয়। একটি পাত্রের ভেতরে কী রাখা হচ্ছে, তা যেমন পাত্রটির উপযোগিতা নির্ধারণ করে, তেমনি উপন্যাসের বিষয়বস্তুও এর মূল বিচার্য বিষয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে যেকোনো সাহিত্য বা বিনোদনমূলক লেখার ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড হলো তা নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না। যদি কোনো গল্পে অশ্লীলতা, শির্ক, কুসংস্কার বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো উপাদান না থাকে এবং তা যদি মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে রাখে, তবে তা পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী জ্ঞান ও সৃজনশীল চর্চাকে সবসময় উৎসাহিত করা হয়েছে।

তবে কোনো উপন্যাস যদি পাঠকের মনে কুপ্রভাব ফেলে, নৈতিক অবক্ষয় ঘটায় কিংবা তাকে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করে, তবে তা বর্জনীয়। ইসলামে সময়ের অপচয় রোধের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় গল্প-উপন্যাস পড়ার কারণে যদি ফরজ ইবাদত বা দৈনন্দিন জরুরি কাজ ব্যাহত হয়, তবে তা অনুচিত বলে গণ্য হবে।

সারაკথ্য হলো, বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। ইসলামের মূল কাঠামোর ভেতরে থেকে শিক্ষণীয়, জ্ঞানবর্ধক এবং মার্জিত রুচির সাহিত্য পাঠ করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এতে কোনো ধরনের ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা নেই। পাঠকের মানসিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক এমন সাহিত্য চর্চাকে ইসলাম ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখে থাকে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গল্প-উপন্যাস পড়া কি ইসলামে নিষিদ্ধ

Update Time : ০৯:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে গল্প বা উপন্যাস পড়ার বিষয়টির কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং এসব সাহিত্যকর্ম একজন মানুষের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলছে এবং এর ভেতরের বিষয়বস্তু কেমন, তার ওপর নির্ভর করে এর ইসলামসম্মত বৈধতা নির্ধারিত হয়। একটি পাত্রের ভেতরে কী রাখা হচ্ছে, তা যেমন পাত্রটির উপযোগিতা নির্ধারণ করে, তেমনি উপন্যাসের বিষয়বস্তুও এর মূল বিচার্য বিষয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে যেকোনো সাহিত্য বা বিনোদনমূলক লেখার ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড হলো তা নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না। যদি কোনো গল্পে অশ্লীলতা, শির্ক, কুসংস্কার বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো উপাদান না থাকে এবং তা যদি মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে রাখে, তবে তা পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী জ্ঞান ও সৃজনশীল চর্চাকে সবসময় উৎসাহিত করা হয়েছে।

তবে কোনো উপন্যাস যদি পাঠকের মনে কুপ্রভাব ফেলে, নৈতিক অবক্ষয় ঘটায় কিংবা তাকে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করে, তবে তা বর্জনীয়। ইসলামে সময়ের অপচয় রোধের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় গল্প-উপন্যাস পড়ার কারণে যদি ফরজ ইবাদত বা দৈনন্দিন জরুরি কাজ ব্যাহত হয়, তবে তা অনুচিত বলে গণ্য হবে।

সারაკথ্য হলো, বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। ইসলামের মূল কাঠামোর ভেতরে থেকে শিক্ষণীয়, জ্ঞানবর্ধক এবং মার্জিত রুচির সাহিত্য পাঠ করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এতে কোনো ধরনের ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা নেই। পাঠকের মানসিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক এমন সাহিত্য চর্চাকে ইসলাম ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখে থাকে।