কেয়ামতের ছোট ৫ আলামত: নবীজির দৃশ্যমান ভবিষ্যদ্বাণী
- Update Time : ০৮:৩১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ২ Time View
ধর্ম ডেস্ক: ইসলামি পরিভাষায় কেয়ামত বা মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়ার আগের সময়টিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো বড় আলামত এবং অন্যটি ছোট আলামত। বড় আলামতের মধ্যে রয়েছে দাজ্জালের আবির্ভাব কিংবা হজরত ঈসা (আ.)-এর পৃথিবীতে অবতরণ করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘটনা। অন্যদিকে, ছোট আলামতগুলোর একটি বড় অংশ এমন যা ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে কিংবা সময়ের বিবর্তনে সমাজে প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে।
কেয়ামতের ছোট আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো সমাজে অজ্ঞতা ও অনৈতিকতার ব্যাপক বিস্তার ঘটা। ধর্মীয় জ্ঞান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে এবং মানুষের মধ্যে সঠিক শিক্ষার পরিবর্তে নানা ধরনের কুসংস্কার ও বিশৃঙ্খলা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ সামান্য কারণে একে অপরের রক্ত ঝরাতে দ্বিধাবোধ করে না এবং সমাজে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিভিন্ন হাদিসে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে উম্মতকে আগেই সতর্ক করে গিয়েছিলেন।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছোট আলামত হলো সময় বা যুগের পরিধি সংকুচিত হয়ে আসা। এর অর্থ হলো সময়ের বরকত কমে যাওয়া এবং সবকিছু খুব দ্রুত কেটে যাওয়া, যা বর্তমান যুগের যান্ত্রিক জীবনযাত্রার সঙ্গে বেশ মিলে যায়। মানুষ সকালবেলা যে ঈমান নিয়ে দিন শুরু করে, সন্ধ্যাবেলায় তা ধরে রাখতে পারে না কিংবা বস্তুগত মোহে আচ্ছন্ন হয়ে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যায়। নবী করিম (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সমাজের সাধারণ ও অভাবী মানুষগুলো একসময় বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।
এ ছাড়া আমানতের খেয়ানত করা এবং অযোগ্য ব্যক্তির হাতে নেতৃত্ব বা ক্ষমতা অর্পিত হওয়াও কেয়ামতের ছোট আলামতের অন্তর্ভুক্ত। যখন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো এমন সব মানুষের কাছে চলে যায় যারা সেই পদের যোগ্য নন, তখন সামগ্রিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই আলামতগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া এবং পরকালের প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ জানানো। তাই ইসলামি গবেষকেরা এসব বিষয়কে কেবল ভয়ের কারণ হিসেবে না দেখে মুমিন মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় পথে অবিচল থাকার একটি বিশেষ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করেন।

























