Dhaka ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

ফিচার ডেস্ক: সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে চারপাশের চেনা অবয়বও বদলে যায় আমূল। তিন দশকেরও বেশি সময় আগের সেই শান্ত ও নিরিবিলি পথটি আজ আর আগের মতো নেই। একসময়ের নির্জন ওই এলাকার দুই পাশের উর্বর ফসলি জমিতে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাকা স্থাপনা। সময়ের এই দীর্ঘ যাত্রায় গ্রামীণ সেই জনপদটি ধীরে ধীরে একটি জমজমাট বাণিজ্যিক এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, আশির দশকে এই অঞ্চলটি ছিল খুবই নিরিবিলি এবং ফাঁকা। তখন এই মেঠোপথের ধারে কোনো কোলাহল ছিল না, চারপাশজুড়ে ছিল ফসলের ক্ষেত ও সবুজ প্রকৃতি। সন্ধ্যার পর ওই পথে লোকসমাগম প্রায় থাকত না বললেই চলে। সেই নির্জন পরিবেশের কারণে স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা আড্ডা দেওয়ার জন্য এই জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিল।

তরুণদের নিয়মিত আড্ডা আর মেলামেশার সুবাদেই একসময় স্থানটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। আড্ডাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই বিশেষ জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে যায় ভালোবাসার এক অন্যরকম অনুভূতি। মানুষের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে একপর্যায়ে স্থানটির নামই হয়ে যায় প্রেমতলা। যদিও আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় সেই চেনা রূপ আজ সম্পূর্ণ উধাও, তবুও পুরোনো দিনের মানুষের মুখে এখনো টিকে রয়েছে এই নামটি।

বর্তমানে ওই এলাকায় শুধু নামের স্মৃতিটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে, বাস্তবে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সেখানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ফসলি জমির বুক চিরে তৈরি হয়েছে পাকা সড়ক, আর মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকাটি। পরিবর্তনের এই স্রোতে পুরনো দিনের সেই রোমান্টিকতা হারিয়ে গেলেও নতুন প্রজন্মের কাছে এটি এখন একটি ব্যস্ত জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প

Update Time : ০৯:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে চারপাশের চেনা অবয়বও বদলে যায় আমূল। তিন দশকেরও বেশি সময় আগের সেই শান্ত ও নিরিবিলি পথটি আজ আর আগের মতো নেই। একসময়ের নির্জন ওই এলাকার দুই পাশের উর্বর ফসলি জমিতে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাকা স্থাপনা। সময়ের এই দীর্ঘ যাত্রায় গ্রামীণ সেই জনপদটি ধীরে ধীরে একটি জমজমাট বাণিজ্যিক এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, আশির দশকে এই অঞ্চলটি ছিল খুবই নিরিবিলি এবং ফাঁকা। তখন এই মেঠোপথের ধারে কোনো কোলাহল ছিল না, চারপাশজুড়ে ছিল ফসলের ক্ষেত ও সবুজ প্রকৃতি। সন্ধ্যার পর ওই পথে লোকসমাগম প্রায় থাকত না বললেই চলে। সেই নির্জন পরিবেশের কারণে স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা আড্ডা দেওয়ার জন্য এই জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিল।

তরুণদের নিয়মিত আড্ডা আর মেলামেশার সুবাদেই একসময় স্থানটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। আড্ডাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই বিশেষ জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে যায় ভালোবাসার এক অন্যরকম অনুভূতি। মানুষের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে একপর্যায়ে স্থানটির নামই হয়ে যায় প্রেমতলা। যদিও আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় সেই চেনা রূপ আজ সম্পূর্ণ উধাও, তবুও পুরোনো দিনের মানুষের মুখে এখনো টিকে রয়েছে এই নামটি।

বর্তমানে ওই এলাকায় শুধু নামের স্মৃতিটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে, বাস্তবে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সেখানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ফসলি জমির বুক চিরে তৈরি হয়েছে পাকা সড়ক, আর মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকাটি। পরিবর্তনের এই স্রোতে পুরনো দিনের সেই রোমান্টিকতা হারিয়ে গেলেও নতুন প্রজন্মের কাছে এটি এখন একটি ব্যস্ত জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।