Dhaka ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা ঘোষণা, চলতে পারবে না যেসব সড়কে

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

জাতীয় ডেস্ক: সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবেশবান্ধব এবং স্বল্পগতির তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল সুশৃঙ্খল করতে একটি নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে এই নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরের অগোছালো যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে নিবন্ধন বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা শহরের সড়কে চলাচল করতে পারবে না। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার যানের জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি দশ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি যানের ফিটনেস সনদের জন্য এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে এবং একজন ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচটি যানের নিবন্ধন নিতে পারবেন।

যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি নিবন্ধিত যানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বরপ্লেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতিটি যানের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে বারো বছর। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, প্রার্থনালয় এবং জনবহুল এলাকায় গতি কমিয়ে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় পনেরো কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হবে।

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে এই যানগুলোর চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল সড়ক, প্রধান বাস রুট, ফুটপাত এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ এলাকায় এগুলো চলতে পারবে না। পাশাপাশি এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত যান অন্য কোনো সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অবৈধ চার্জিং এবং যত্রতত্র চলাচল বন্ধের মাধ্যমে সড়কে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা ঘোষণা, চলতে পারবে না যেসব সড়কে

Update Time : ১২:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবেশবান্ধব এবং স্বল্পগতির তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল সুশৃঙ্খল করতে একটি নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে এই নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরের অগোছালো যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে নিবন্ধন বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা শহরের সড়কে চলাচল করতে পারবে না। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার যানের জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি দশ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি যানের ফিটনেস সনদের জন্য এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে এবং একজন ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচটি যানের নিবন্ধন নিতে পারবেন।

যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি নিবন্ধিত যানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বরপ্লেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতিটি যানের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে বারো বছর। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, প্রার্থনালয় এবং জনবহুল এলাকায় গতি কমিয়ে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় পনেরো কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হবে।

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে এই যানগুলোর চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল সড়ক, প্রধান বাস রুট, ফুটপাত এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ এলাকায় এগুলো চলতে পারবে না। পাশাপাশি এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত যান অন্য কোনো সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অবৈধ চার্জিং এবং যত্রতত্র চলাচল বন্ধের মাধ্যমে সড়কে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।