Dhaka ১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীরগঞ্জে ঐতিহাসিক গোলাপগঞ্জ হাটে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গরুর বেচাকেনা

মোয়াজ্জেম সরকার রুবেল
  • Update Time : ০৬:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • / ১৮ Time View

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি::উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন গরুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক গোলাপগঞ্জ গরুর হাট। বছরের পর বছর ধরে এই হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বৃহৎ পশু বাণিজ্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতি হাটবারে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো গোলাপগঞ্জ এলাকা।

ভোরের আলো ফুটতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আসেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। হাটজুড়ে দেশি, ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও বিভিন্ন সংকর জাতের গরুর সমাহার দেখা যায়।

হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় নানা আকারের গরু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও আবার গরুর স্বাস্থ্য, দাঁত ও ওজন যাচাই করছেন ক্রেতারা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের পশু কিনতে হাটে আসেন।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক যুগের পুরোনো এই গোলাপগঞ্জ গরুর হাট শুধু পশু কেনাবেচার স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ। হাটকে কেন্দ্র করে পরিবহন, খাবারের দোকান, পশুখাদ্য, দড়ি, বাঁশসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাও জমে ওঠে।

একজন খামারি বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করি। গোলাপগঞ্জ হাটে ক্রেতা বেশি আসে এবং ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই দূরের হাট বাদ দিয়ে এখানেই গরু নিয়ে আসি।”

হাটে আসা এক ক্রেতা জানান, “এই হাটে বিভিন্ন জাতের গরু পাওয়া যায়। দাম একটু বেশি হলেও গরুর মান ভালো। তাই মানুষ আস্থা নিয়ে এখানে আসে।”
হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর দেখা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ ও যানজট নিরসনেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আধুনিক অবকাঠামো, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও স্থায়ী পশু শেড নির্মাণ করা হলে ঐতিহাসিক গোলাপগঞ্জ গরুর হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক পশুর হাট হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বীরগঞ্জে ঐতিহাসিক গোলাপগঞ্জ হাটে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গরুর বেচাকেনা

Update Time : ০৬:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি::উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন গরুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক গোলাপগঞ্জ গরুর হাট। বছরের পর বছর ধরে এই হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বৃহৎ পশু বাণিজ্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতি হাটবারে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো গোলাপগঞ্জ এলাকা।

ভোরের আলো ফুটতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আসেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। হাটজুড়ে দেশি, ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও বিভিন্ন সংকর জাতের গরুর সমাহার দেখা যায়।

হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় নানা আকারের গরু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও আবার গরুর স্বাস্থ্য, দাঁত ও ওজন যাচাই করছেন ক্রেতারা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের পশু কিনতে হাটে আসেন।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক যুগের পুরোনো এই গোলাপগঞ্জ গরুর হাট শুধু পশু কেনাবেচার স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ। হাটকে কেন্দ্র করে পরিবহন, খাবারের দোকান, পশুখাদ্য, দড়ি, বাঁশসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাও জমে ওঠে।

একজন খামারি বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে গরু লালন-পালন করি। গোলাপগঞ্জ হাটে ক্রেতা বেশি আসে এবং ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই দূরের হাট বাদ দিয়ে এখানেই গরু নিয়ে আসি।”

হাটে আসা এক ক্রেতা জানান, “এই হাটে বিভিন্ন জাতের গরু পাওয়া যায়। দাম একটু বেশি হলেও গরুর মান ভালো। তাই মানুষ আস্থা নিয়ে এখানে আসে।”
হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও তৎপর দেখা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ ও যানজট নিরসনেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আধুনিক অবকাঠামো, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও স্থায়ী পশু শেড নির্মাণ করা হলে ঐতিহাসিক গোলাপগঞ্জ গরুর হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক পশুর হাট হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করবে।